Don’t judge a book by its cover— বাহ্যিক অবয়ব দেখে যেনো আমরা ভেতর সম্পর্কে ধারণায় বা ভেতর সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছে না যাই— প্রবাদবাক্য এই কথাই বলে। অথচ চেহারার বৈচিত্র্য দেখে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছি বাঙালি জাতিতে শংকর।
বাঙালির খাবার এক, বাঙালির ঘুমানোর পদ্ধতি এক, বাঙালির বিয়ে করার পদ্ধতি এক, বাঙালির শারীরিক মিলনের কৌশল প্রায় এক, বাঙালির রোগবালাই এক। এক মানে একই রকম— রকমফের উপলব্ধি করা যায় কোথাও ভাবে, কোথাও ভঙ্গিতে— ভাব ও ভঙ্গিতে একসঙ্গে রকমফের পাওয়া যাবে না বাঙালির আচরনে। পাচজন বাঙালি একটা টেবিলে বসে গল্প করলে তাদের গল্প না শুনেই বলে দেয়া যায় তারা কি নিয়ে কথা বলছে। চেহারাগত পার্থক্যকে অতিরঞ্জিত করে মানুষ যে কৃত্রিম বিভাজন তৈরি করে, সত্যকথা তার বিরোধিতা করে— এবং এই বিরোধিতা শক্তিশালী না হওয়ার পেছনে কলোনিয়াল ট্যাবলেট কাজ করে বলে সত্যকথা ঠিক এই আলোচনাতে প্রমাণ সাপেক্ষে যুক্তিতর্ক নয়— যুক্তিবাদী হয়ে উঠে।
বাঙালি মসজিদ কিংবা মন্দিরে যায় স্বর্গ বা জান্নাতে যাওয়ার লোভে, সামাজিক প্রতিপত্তি অর্জনের লোভে। বাঙালির ঘুম থেকে শুরু করে জেগে উঠা পর্যন্ত, জেগে উঠা থেকে ঘুমানো পর্যন্ত যাবতীয় মানসিক পদক্ষেপ ও শারীরিক কার্যক্রম চোখ বন্ধ করে নামাতার মতো বলে দেয়া যায়।
একটা সূর্যমুখী ফুলের সাথে একটা সরিষা ফুলের যে গুনগত পার্থক্য, একটা সরিষা ফুলের সাথে একটা গোলাপ ফুলের যে গুনগত পার্থক্য সেই পরিমাণ পার্থক্যও একজন বাঙালির সাথে আরেকজন বাঙালির নাই। অথচ চেহারার ভিন্নতা, কালার টোনের ভিন্নতার কারনে এক বাঙালির সাথে আরেকজন বাঙালির মাঝে কারা যেনো একেবারে চিনের দেয়াল বসিয়ে দিয়েছে— এবং বলছে বাঙালি শংকর জাতি।
শংকর হতে পারা বিরাট অর্জনের ব্যাপার— এই অর্জন বাঙালির ঝুলিতে আসেনি। কেবল একপ্রকার গাছ দিয়ে ক্ষেত হয়— বাগান হয় না। বাঙালির ক্ষেতে আলো সবজি পটল ভালো জন্মেছে— আর ভালো জন্মেছে পটল তোলাকে কেন্দ্র ধরে ব্যবসার কাজ। তাইতো বাঙালির প্রবাদসম্ভারে জমা হয়েছে আগে দর্শনধারী, পরে গুনবিচারী। এখানে গুন মানে কে কত খোয়ারে ঢুকতে পারে— খোয়ার থেকে বের হয়ে আকাশ আবিষ্কার এখানে সীমালঙ্ঘনকারী বাস্টার মাত্র। তাই মিথবাস্টার হয়ে উঠতে এখানে লড়তে হয় প্রথমে প্রচলিত প্রথাসিদ্ধ স্রোতের বিপরীতে, তারপর নিজের জমাভিজ্ঞতার বিপরীতে এবং কফি খেতে খেতে মাঝেমধ্যে বলতে হয় All that glitters is not gold.










