emranorreja.com

এমরানুর রেজার কবিতা, গল্প, ভ্রমন, ভাষা বদল, মত-দ্বিমত, ছায়াছবি, বই রিভিউ, জলেশ্বরী, থিয়েটার ও আড়াইসিধা দিয়ে সাজানো…

Advertisement

একটি চুরির ঘটনা

দত্ত। মাইকেল। মাইকেল আর দত্ত এক নয়। তবুও তাঁর নাম মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত কেনো বলেন বঙ্গে বিবিধ রতন রয়েছে তা যশোরে না আসলে বুঝতে পারতাম না। পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের গ্রাম অবশ্যই আলোচনার মতো সৌন্দর্যের দাবিদার। বাংলার গ্রাম শ্যামলিমা– শ্যামল বর্নের গন্ধ জোয়ার।

ঝিকরগাছা থেকে যাবো রাজগঞ্জ। কপোতাক্ষ নদের ব্রিজের গোড়া থেকে বাইকে ওঠলাম। বাইক যিনি চালাচ্ছেন তার নাম আমিন। তার ছেলের নাম আসলাম ( বাংলাদেশের মানুষের নামের অর্থ জানলে আরবি অভিধানের অর্ধেক মুখস্থ হয়ে যাবে)। আসলাম মাদ্রাসায় পড়ে। ঝিকরগাছা ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা। সাইনবোর্ডে লেখা। বাস্তবতা কেমন তা অনুমান করতে পারি না। কারন বাংলাদেশের অনেক কিছু অনুমান করা সম্ভব নয়। কারন বাংলাদেশ আর আগের বাংলাদেশ নেই। বাংলাদেশে এখন দৃশ্যমান মুখের চেয়ে অদৃশ্য মুখ অনেক বেশি শক্তিশালী।

ঝিকরগাছা থেকে রাজগঞ্জ প্রায় আঠার কিলোমিটার এলাকা। বাইকভাড়া দুইশত টাকা।

বাইক চালাতে আরম্ভ করেছে আমিন। আমিন সাহেব প্রথমেই আমাকে ভয় দেখালেন। ডাকাত আক্রমন করতে পারে এমন ভয়। আমিও ভয় পেতে আরম্ভ করলাম। বাইক চালক আমিন আমাকে দেখালেনও বটে কোন জায়গাটিতে ডাকাত একটি লাশ কেটে কুচিকুচি করে ফেলে রেখেছিল। আমার ভয় আরও বেড়ে গেল।

বাইক থামান।

কেন?

পেশাব করবো।

ভয় পেলে মানুষের পেশাব পায়। অনেকের ভয় পেলে বমি আসে। হয়তো ভয়ের সাথে জলের একটা সম্পর্ক আছে। ভয় পেলে জল খেলে ভয় অনেকটা কমে যায়। আমি জলমাইনাস করে আবার বাইকে বসলাম।

বাইক চলছে। আমি একদম ভুলে গেছি ডাকাতের কথা।

কেন কেন?

রাস্তার দুপাশে খেঁজুর গাছের রমনীয় কেশ। কেশের ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায় দৃশ্যমধুর মাঠবন। জোছনাপূর্ন আকাশ বিন্দু বিন্দু তারা। নিরন্তর নিরবতায় বারবার ঢুকে যাচ্ছে আমাদের শরীর। বাংলাদেশ ভারতের সীমান্ত নদীর মতো হিংস্র নীরব সৌন্দর্যের পাশে মৃদু বাতাসের হাততালি। হঠাৎ হঠাৎ, অনেকক্ষন পরপর গ্রামীন জীবনের আড্ডাসুখ যেন উৎসব দিনে নীল শাড়ি আর জলপাই কালারের ব্লাউজ পরে বসে রয়েছে। অপার সৌন্দর্যের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে বুঝতে পারলাম জীবনের আনন্দ কোথায় কেমন করে লুকোচুরি খেলে। জীবনের আরেকটি উপলব্ধি খুঁজে পেলাম যা কোন মানুষ দিতে পারে না, রাজগঞ্জ যাওয়ার স্লিম ফিগারের রাস্তাটি দিতে পেরেছে।

রাজগঞ্জ যাওয়ার পর জানতে পারি আমাকে যেতে হবে বেলতলা মানে হাজরাকাঠি। আরও ষাট টাকা বিনিয়োগ করে গেলাম বেলতলা। বেলতলা গিয়ে ভালো লাগা আরও বেড়ে যায়। গ্রামের বাজার এতো চমৎকার পরিচ্ছন্ন হতে পারে প্রথম দেখলাম। যে বেল গাছটির কারনে জায়গাটির নাম বেলতলা সেই গাছটি বহু বছর আগে মারা গেছে। তবুও নামের মধ্যে গাছটি বেঁচে আছে। ময়নার দোকান থেকে মিষ্টি খেলাম। মিষ্টির মধ্যেও পরিচ্ছন্ন স্বাদ মিশে রয়েছে।

সাইকেল নিয়ে আসে বন্ধু কামরুল। আমার বন্ধুসঙ্গ খুবই আনন্দের। কারন তাদের কাছে আমার রুচিবোধের পরীক্ষা দিতে হয় না। সে সাইকেল চালাচ্ছে আর গান করছে। গ্রামের রাস্তা। আকাশে চাঁদ। দশ মিনিটের মধ্যে আমরা বাড়িতে পৌঁছে যাই। মাটির বাড়ি এবং তার লাইটিংয়ের বাহার মুগ্ধকর।

কামরুলদের বাড়ি দুটি থানা জুড়ে রয়েছে। বাড়ির কিছু অংশ রয়েছে মনিরামপুর থানায় কিছু অংশ রয়েছে কেশবপুর থানায়। ইন্টারেস্টিং। খুবই ইন্টারেস্টিং।

সাইকেলে বসেই আমরা কিছু পরিকল্পনা করি। পরিকল্পনা এক: পুকুরে গোসল করা। পরিকল্পনা দুই: আখ চুরি করা।

গোসল শেষ করে এবার আখ চুরি করার পালা। দুজনে লুঙ্গি পরে নিলাম। লুঙ্গি নেংটি দিলাম। নিতম্ব ঝুলছে। আমার এবং তার।

আগের দিনের দাদা চাচারা নিতম্ব বের করে কেন কাজ করতো তার রহস্য একটু উদ্ধার করার চেষ্টা করলাম। নিতম্ব বের করে লুংগি নেংটি দিলে একটা বন্যভাব আসে। আর বন্যরা কাজে সুন্দর।

একটা বটি দা নিলাম। দা টি দেখতে বকের গলা এবং মাথার মতো।

কোনো আওয়াজ করা যাবে না কামরুলের নির্দেশ। ডিরেক্টরের নির্দেশ অবশ্যই মানতে হবে। জীবনে আখ ক্ষেত দেখেছি মাত্র একবার। নরসিংদীতে। দ্বিতীয় বার আখ ক্ষেত দেখবো। তাও রাতে। তাও আবার এসিসটেন্ট চোর হিসাবে….

চারদিকে সুনসান রাতবাঁধানো নীরবতা। আমরা যাচ্ছি চুরি করার ঋতি ও ঋদ্ধির পথে। সামনেই বাঁশঝাড়। বাঁশঝাড়ের পাশেই দাদিমার কবর। কবরের পাশেই বটগাছ যেখানে পরী নেমে আসতো। সারা রাত পরী নাচতো। তারপর সুন্দর ছেলেদের তুলে নিয়ে যেতো পরীরাজ্যে। জোছনা রাতেই বিশেষ করে তারা নেমে আসতো। আজকে ত আকাশমাতানো জোছনা। আমাকে দেখামাত্র পরীদের ভালো লেগে যাবে। কারন আছে। কারন মানুষদের বলা যাবে না, পরীরা জানে। ভয় সিড়ি বেয়ে উপরে ওঠতে লাগলো। প্রধান চোরের নির্দেশ কোনো প্রকার আওয়াজ করা যাবে না এবং দৌড়ঝাঁপ করা যাবে না। কিন্তু আমার প্রচন্ড চিৎকার দিয়ে পালাতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু কোনো উপায় নাই। আলী বাবা গুহায় ঢুকে গ্যাছে। কামরুল একটা আখ কাটলো দুইটা কাটল, এমন করে আটটা আখ কাটলো।

আর লাগবে না আর লাগবে না, এবার বের হয়ে আসো।

সে বের হয়ে এলো।

কবর, বাঁশঝাড়, বটগাছ পার হয়ে যেতে হবে। আমার রক্ত শীতল হয়ে আসতেছে। পরী যদি আমাকে তুলে নিয়ে যায় তাহলে কালকে কে বাওড় দেখতে যাবে? বাওড় দেখতে হাওড়ের মতো তবে আয়তনে ছোট। বাওড়ে মাছ চাষ ভালো হয়। সাদা মাছ। প্রায় সারা বছর পানি থাকে সেখানে।

কে মনিরামপুর থেকে কেশবপুর ভ্যানে করে যাবে?

ভ্যান যশোরের রাস্তায় পাবলিক বাস। প্রাইভেট বাস বাইক কিংবা সাইকেলকে বলা চলে। শ্যামল সৌন্দর্য পাঠ করতে করতে এখানকার প্রত্যেকটি মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গমন ভ্রমন রমন করে থাকে। এখানকার রাস্তার পাশে বসে আড্ডা দিতে দিতে এক রাত শেষ করা যায়। গ্রামের কাছে ভরা সৌন্দর্য প্রার্থনা প্রত্যেক মানুষের। গ্রাম সেই প্রার্থনা রক্ষাও করে থাকে। মনিরামপুর কেশবপুর গ্রামে না আসলে হয়তো গ্রামসৌন্দর্যসত্য কথাটি আমি বুঝতে পারতাম না। থ্যাঙ্কস মাই ডিয়ার বিউটি সিন ভিলেজ ….

One comment
* * * $3,222 payment available! Confirm your transaction here: http://bssfglobal.org/?qqcxu9 * * * hs=d3cdaca6457e812fc2cee4d8424d39c8* ххх*

55nf36

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *