রেজা আসতে চায়নি। তাকে আনা হয়েছে। অথবা আনানো হয়েছে। এই বাংলার এই বাংলাদেশের পরিবার কাঠামো তাকে এই পৃথিবীতে নিয়ে আসছে। মলফত খান প্রতিদিন শেষ রাতে তার আল্লার কাছে অনেক দোয়া প্রার্থনা করতেন। প্রতিদিন মানে প্রতিদিন। আল্লার কাছে মলফত খানের একটিই চাওয়া— হে আল্লা! আমার মনুরে একটা পুত দেও।
মলফত খান হজ্জ করতে গেলেন। কাবা শরীফের পাথরে চুমু দিয়ে এমন কান্না শুরু করলেন— আকাশ বাতাস কম্পিত হয়ে উঠলো। কোনোভাবে মলফত খানকে সরানো যাচ্ছিল না। অবশেষে দায়িত্বরত পুলিশ লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন মলফত খানের পায়ে। তাও সরাতে পারছেন না— চোখের পানি এবং হৃদয়ের আর্জি যেনো দুনিয়া থেকে সরে গিয়ে খোদার আরশ মহল্লায় ঠাই নিলো। হজ থেকে ফিরে আসার পর মানুষ ঘিরে ধরলেন মলফত খানকে। আশির দশকে হজ করতে যাওয়া অনেক দামি ব্যাপার। লটারির মাধ্যমে কয়েকজনকে নির্ধারণ করা হতো হজের জন্যে। টাকা থাকলেই হজে যাওয়া যেতো না— ভাগ্যের দারুণ সহযোগিতার প্রয়োজন পড়তো। এতো এতো মানুষের ভীড়ে হাজী মলফত খান প্রথমে ডাকলেন তার বড় মেয়েকে— মনোয়ারা বেগমকে। আমার মনু কই? কই আমার মনু?
মনু জলচোখে লজ্জা লজ্জা ভঙ্গিতে ছুটে গেলেন হাজী মলফত খানের কাছে। মারে আল্লার ঘরে তুমার পুতের লাইগগা দুয়া করে আইছি, তুমার পুত অইবো, তুমারে আল্লা একটা পুত দিব। তারপর আবার কান্না শুরু হয়ে গেলো হাজী মলফত খানের আধাপাকা ঘরে। ঘরভর্তি মানুষ। সবার চোখে জল। ঠিক জল নয়— জলফুলের বাগান।





