বুরাকালে কনে ন হয় সতী পোয়াকালে কনে ন খায় লতি এটি চট্রগ্রামের একটি আঞ্চলিক প্রবাদ— বুরাকাল এবং পোয়াকাল দুটি সময়বিন্দু— এই সময়বিন্দু দুটি অনেকটা স্টেশনের মতো কাজ করে। তাস দাবা পাশা— তিনটি সর্বনাশা। পোয়াবারো শব্দটির সাথে পাশা খেলার মানসিক সম্পর্ক আছে— লুডো খেলার ছক্কার মতো পাশাতেও আছে তিনটি গুটি। গুটিগুলো যখন চালা হয় সেটাকে বলা হয় দান। প্রতি দানে পাশা খেলায় তিনটি গুটি একসঙ্গে ফেলা হয়— প্রত্যেকটি গুটিতে ১,২,৫,৬ নাম্বার থাকে। ছক্কা পড়লে গুটি বের হয় ঘর থেকে লুডো খেলাতে— পাশা খেলায় তিনটি গুটি মিলে ৯ উঠলো তো খেলা শুরু। পাশা খেলায় একের পোশাকি নাম পোয়া— সবচেয়ে বড় দান পোয়াবারো— ৬+৬+১=১৩— এটি সবচেয়ে দামি দান এবং দুর্লভও বটে। পোয়াবারো পাশা খেলায় সৌভাগ্যের দান হিসাবে মান্য করা হতো এবং হয়। এখনো অনেক সম্প্রদায়ের কাছে ১৩
ভাষা
ইডা, ইতা, সই
বাজে কয়টা ভাই? দশটা। সই দশটা? হুম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নরসিংদী কিশোরগঞ্জে সই মানে সমান। সই দশটা মানে সমান দশটা। সই(সহি) দেয়া মানে স্বাক্ষর দেয়া— টিপসই শব্দটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও ত্রিপুরা রাজ্যে বহুল প্রচলিত। সই আবার বান্ধবী অর্থেও ব্যবহৃত হয়— দুস্ত মানে বন্ধু, দুস্তের বিপরীত শব্দ হিসাবে সই ব্যবহৃত হয়— তখন সখি হতে সই শব্দের জন্ম। ‘সই কইরা লামু’ শব্দটি ঠিক করে ফেলা অর্থে ব্যবহৃত হয়। কেউ যখন খুব বাড়াবাড়ি করে তখন ‘সই কইরা লামু’ শব্দটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের মানুষ বলে থাকে। ‘সই করা’ মানে সমান করা। লাঙল দিয়ে চাষ করার পর ক্ষেতে ইডা বা মাটির ঢিলা জমা হয়। আর সেই ইডা বা মাটির ঢিলা মই বা চগম দিয়ে অথবা মুহৈর<মুগুর ব্যবহার করে ভেঙে সমান করে বিজ ফেলার উপযোগিতা নির্মাণ করতে হয়। ক্ষেতের ইডা বা মাটির ঢিলা ভেঙে
বাওনবাইরার ভাষা [ ৮ ]
ব্রাহ্মানবাড়িয়ায় শব্দ উচ্চারণের শেষে ‘গা’ প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায় — নেয়া > নিমু > নিমুগা যাওয়া > যামু > যামুগা আজ > আজকে > আজগা লাগি > লাইগগা চাওগা খাওগা লওগা লাগি > লাইগগা ( আরও পড়ুন ) ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৭ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৬ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৫ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৪ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৩ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ২ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ১ ]
বিছঐন মানে পাখা
বইল। আমের মকুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের মানুষ বইল বলে। মুকুল> বুকুল> বইল অথবা বউল> বইল। ফাজুন মানে লাঠি। গরুকে দিয়ে হালচাষ করার জন্যে একধরনের লাঠির দরকার হতো— সেই বিশেষ ধরনের ছোট মাঝারি শক্তিশালী লাঠিকে ফাজুন বলে। এই লাঠিটা সাধারণত বরাক বাশ দিয়ে তৈরি করা হতো। হালের বলদ দিয়ে মাঠে হাল বাওয়া হতো ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত— কোন কোন সময় হালের বলদ দুর্বল হয়ে শুয়ে পড়তো— আইল্লা পাজুন দিয়ে পিটানো হতো এক্টিভেট হওয়ার জন্য— তাতেও যদি বলদ সক্রিয় না হতো, তাহলে বলদের লেজের মাথায় সুঁই ঢুকানো হতো— কোনো কোনো সময় ম্যাচ জ্বালিয়ে সেকা দেওয়া হতো লেজের আগায়— সেকা খেয়ে বলদ লাফ দিয়ে উঠে পড়তো! বিছঐন মানে পাখা— চমৎকার হাতের কারুকাজ সংবলিত পাখা। যখন বিদ্যুৎ ছিল না তখন কৃষি প্রধান বাংলার মানুষের শরীরে বাতাস করার প্রধান
বাওনবাইরার ভাষা [ ৭ ]
শব্দের মাঝে কিংবা শেষে ‘হ’ বর্ণ থাকলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ‘হ’ বর্ণটি বিলুপ্ত হয়ে উচ্চারিত হয় ভেহেস্ত > ভেস্ত; আল্লাহ্ > আল্লা; গোনাহ > গোনা; সোবাহান > সোবান; যশোহর > যশোর; তাহসান > তাসান; শাহবাগ > শাবাগ; বাদশাহ > বাদশা; ( আরও পড়ুন ) ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৬ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৫ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৪ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৩ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ২ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ১ ]
সুখবাসী মানুষের ভাষা
১৬১০ সাল। সুবেদার। বাংলার সুবেদার ইসলাম খান চিশতি ঢাকায় আসন পাতেন। সুবেদার সাহেবের সাথে অসংখ্য পশ্চিম ভারতীয়, আফগান, ইরান-আরবি তথা বহিরাগত মুসলমান-সনাতনী ঢাকায় আসেন। এই আগমন ধারা আরও প্রায় ২৫০ বছর চলমান থাকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ধরে। সুবেদার ইসলাম খান চিশতিকে মেন্টর মনে করে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে উঠা এই বিশাল জনস্রোতের ধারাই আজকের পুরান ঢাকা। তবে আলো ব্যবসা জুতা ব্যবসা আলু ব্যবসা মাছ ব্যবসাকে কেদ্র করে প্রচুর মিশ্রিত জনস্রোত এই পুরান ঢাকায় পাওয়া যায় যা সুবেদার সাহেবের রচিত জনস্রোতের বাইরে। পুরান ঢাকার মানুষ যে ভাষায় কথা বলে তা মূলত সোব্বাসী ভাষা। সুখে বাস করা বা সুখবাস থেকে সোব্বাস। সোব্বাস ঢাকাইয়ারা সুখকে বলে সোখ। সুখ থেকে সোখ, ফলে সুখবাস থেকে সোব্বাস। পুরান ঢাকার মানুষ যে সুখে বসবাস করতে পছন্দ করে তার অনেক
শব্দের জীবন
তারা শব্দের প্রথমে র’ ফলা থাকলে র’ ফলাকে উচ্চারন করতে প্রস্তুত নয়। ফলে গ্রাম, গ্রামীন, প্রান , ঘ্রান প্রভৃতি শব্দের উচ্চারন করে গেরাম, গেরামিন, পরান, গেরান। তারা জিব্বার ওঠানামা, আগেপিছে নিয়মনীতির প্রতি যথেষ্ট পরিমানে উদাসীন। দেখা যায় টিব্যাগকে উচ্চারন করতেছে টিকেট। টিব্যাগের চা দাও বললে, তারা অনুবাদ করে জানতে চায় টিকেট চা কিনা। তখন বলি হ মামা, টিকেট চা। তারা শব্দের সংক্ষিপ্তকরনে পটু। ওগো আমার আপাকে তারা আগঅ’ বলে কাজ সমাধান করে ~ আগঅ তুমি হুদুহুদি রাগ করতাছ।
‘তুই’ ও ‘তুমি’
গল্পটি আম্মার কাছ থেকে শোনা। আম্মা শুনেছে তার আম্মার কাছ থেকে— এক মহিলার তিন বিয়ে হয়েছে। তার প্রতিটি বিয়ে ভেঙে যাওয়ার একটিই কারন— স্বামী যখনই রাগ করে মহিলাকে ‘তুই’ বলে সে আর স্বামী-সংসার করে না। চতুর্থ বিয়ের সময় মহিলার পরিবার থেকে স্বামীকে সর্তক করে দেয়া হয়েছে যাতে ভুলেও মহিলাকে ‘তুই’ না বলে। স্বামী জমিতে কামলা নিয়ে যায়। বউকে রান্না করার জন্যে বলে যায়। কিন্তু বউ রান্না করে নাই। নাস্তা করতে এসে স্বামী তো প্রচন্ড রেগে যায়। গ্রামীন স্বামী বউকে গালি দিতে হবে— তবে ‘তুই’ বলা যাবে না। এখন? গ্রামীন স্বামী এবার বউকে গালি দিচ্ছে এইভাবে— চুতমারানি তুমি খেতে গেছে মুনি ভাত নানছ না কেরে তুমি কামলা লইয়া হামু কি আমি
বাওনবাইরার ভাষা [ ৬ ]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘ও’ কারের উচ্চারণ ‘উ’ কারের মতো করা হয় আলো > আলু; ভালো > ভালু; কালো > কালু; কোথায় > কুথায়; কোটা > কুটা; শোনা > শুনা; সোনা > সুনা; পাঠানো > পাঠানু; খোলা > খুলা; চোর > চুর; ডোবা > ডুবা; নোনা > নুনা।। ( আরও পড়ুন ) ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৫ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৪ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৩ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ২ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ১ ]
বাওনবাইরার ভাষা [ ৫ ]
শব্দের মাঝে কিংবা শেষে যদি ‘ট’, ‘ঠ’ থাকে তবে তা ব্রাহ্মাণবাড়িয়ার আঞ্চলিক উচ্চারণে ‘ট’, ‘ঠ’ স্থলে ‘ড’ হয় কাঁটা > কাডা; নাটাই > নাডাই; ফাটা > ফাডা; নটী > নডি; ছুটি > ছুডি; কোটা > কুডা; মাটি > মাডি; ছাটাই > ছাডাই; মাঠ > মাড; কাঁঠাল > কাডাল; বৈঠা > বৈডা; ওঠটি >ওডতি, উঠোন > উডান। Ξ আরও পড়ুন Ξ ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৪ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ৩ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ২ ] ♥ বাওনবাইরার ভাষা [ ১ ]