জ্ঞান— আমাকে একটা কথা বলো তো? শিক্ষা— কি কথা হে মহান জ্ঞান? জ্ঞান— নৌকা পানিতে ভাসে। পাথর কেনো ডুবে যায়? শিক্ষা— নৌকা জলে শরীর রেখে যে জায়গা দখল করে তার ওজন জলের ওজনের চেয়ে কম: পাথর জলে যখন শরীর রাখে তখন তার ওজন জলের ওজনের চেয়ে বেশি। জ্ঞান— প্রিয় মেধাবী তুমি উত্তরটা দাও তো। মেধাবী— নৌকার মোট ঘনত্ব পানির চেয়ে কম হওয়ায় এটি ভেসে থাকে, আর পাথরের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় এটি ডুবে যায়। জ্ঞান— বাহ: তোমরা দুজনে সুন্দর বললে। নৌকা আর পাথরের জীবন থেকে তোমরা কি কোনো লেসন খুঁজে পাও? শিক্ষা— আপনিই বলুন হে প্রানপ্রিয় জ্ঞান। জ্ঞান— দুনিয়ার চাওয়া পাওয়ায় এমনভাবে মন রাখো যাতে চাওয়া পাওয়ার ওজন দুনিয়ার চেয়ে বেশি না হয়: বেশি হলে ডুবে যাবে: কম হলে ভেসে থাকবে এবং তীরে যেতে পারবে। মেধাবী— লোভ-লালসার ভারে যখন মন
বৈঠক ঘর
আফালের মাছ [ ১৩ ]
০১ হুজুর ওয়াজ করতেছেন— কলার যদি বাকল না থাকে তাহলে কলাতে মাছি পড়বে, আমে যদি বাকল না থাকে তাহলে আমেতে মাছি পড়বে। মা-বোনদের যদি পর্দা না থাকে তাহলে আমের মতো কলার মতো অবস্থা হবে। পর্দা বা বেপর্দা নিয়ে আমার কোনো কথা নাই। আমার কথা হচ্ছে, বেপর্দা মা-বোনদের জন্যে মাছিটা কেডা!? ২ রক্তের সম্পর্ক মানেই উপকারী এমনটা ভাবার কোনো বিশেষ কারন নাই— উকুন আপনার রক্তের বংশধর,ছারপোকাও— বিশেষ কারনেই আপনি উকুন ছারপোকাকে নিজের সাথে রাখতে চান না। ৩ যত উপরে উঠবে তত একা হবে যখন তুমি আকাশ চিনবে না,চিনবে না মেঘ ☁,চিনবে না বাতাস— সঙ্গী চিনে ফেললে পলকে পলকে বন্ধুত্ব। ৪ তুমুল সঙ্গমের সময় কোনো প্রকার অভিনয় থাকে না— অভিনয় থাকে সঙ্গমহীনতায়— মিলনে থাকে না অমিল, অমিলে যত অভিনয় অভিযোগ অস্বীকার অপ্রাসঙ্গিক অপ্রাপ্তি— মিলন হবে কতদিনে আমার মনের মানুষেরও সনে! ৫ গুলি করা
অর্জুন কৃষ্ণ
অর্জুন— কেউ তীর মারলে কি করা উচিত বাসুদেব? বাসুদেব— তীর খেয়ে ফেলা প্রয়োজন। অর্জুন— কারন জানতে পারি হে মাধব ( माधव)? বাসুদেব— তীর খেয়ে ফেলার পর তীরন্দাজ দুর্বল হয়ে যাবে। আক্রমণকারী তার অস্ত্রের সমান শক্তিশালী। অর্জুন— আবার তো সে শক্তি অর্জন করে আক্রমণ করবে। ভালো হয় না আক্রমণকারীকে একেবারে শেষ করে দেয়া? বাসুদেব— ওহে অর্জুন : জল কখনো শেষ হবে না— নদীর কোথাও চর জাগবে: কোথাও নদীই আবার চর ভাঙবে: তাই জলে সাতার কাটতে শিখো: শিখে নাও প্রচন্ড ঢেউয়ে কেমন করে সার্ফিং করতে হয়। অর্জুন— কি অসাধারণ আইডিয়া বাসুদেব! জাস্ট মুগ্ধ হয়ে গেলাম!! বাসুদেব— প্রিয় অর্জুন আমার, মুগ্ধতা এক ধরনের সীমানা, মগ্ন হতে পারলে সীমানা জয়ের ✌ আনন্দ পাবে।
আমি আর মামু
আমরা ভালো নেই। আমাদের একটা স্বাধীন ভূখণ্ড লাগবে। আমরা এখন যে ভূখণ্ডে আছি তা আমাদের শান্তি দিতে পারছে না— শান্তির নামে আল্লাহু আকবর বলে আমরা আলাদা হলাম। আমাদের নতুন ভূখণ্ডের নাম পাকিস্তান!যেনো একেবারে পাক হয়ে গেলাম— আর কোনো নাপাকি লাগবে না মোর গায়। আমরা ভালো নেই। আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়। আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চায় তারা, এমন বৈষম্য আমরা মেনে নিতে চাই না— আমাদের নিজস্ব ভূখণ্ড লাগবে। আবারও শান্তির নামে বৃটিশ মনোনিত মানচিত্র থেকে আমরা বের হয়ে আসলাম। আমাদের দেশ হলো— নতুন দেশের নাম বাংলাদেশ! বিজয়ের পতাকা পতপত করে আকাশে উড়লো— অনেক কান্নার নদী সাগরে গিয়ে মিশলো— সাগরজল বাষ্প হয়ে ফিরে এলো আবারও+ফিরে এলো আমাদের চোখে! আমরা ভালো নেই। আমাদের নতুন নিয়ম লাগবে। পুরাতন নিয়ম সব বাদ। যিনি নতুন নিয়ম আনতে গেলেন তাকে হত্যা করো— সময় সুযোগ করে
কারবালার তাবিজ
তিনাকে সতর্ক করা হচ্ছে। আকাশ বাতাস তিনাকে সতর্ক করছেন— সতর্ক করছেন জমিনের গাছপালা। কারো সতর্কবানী কানে নিচ্ছেন না তিনি। তিনি শুনছেন তিনার একান্ত নিজস্ব স্বজনদের কথা। স্বজনদের উপর তিনি অনেক নির্ভরশীল হয়ে গেলেন।লোকজন তিনার বাসভবনের সামনে জমায়েত হতে শুরু করে— তিনি তাদেরকে তিন দিনের সময় দিলেন আন্দোলন ভেঙে বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্যে। আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। কোনোভাবে আন্দোলন দমন করতে পারছেন না তিনি।তিনি আন্দোলনকারীদের সামনে আসলেন না— আসলেন তিনার পক্ষ থেকে তিনারই একজন স্বজন— এসে বক্তব্য দিলেন—তোমরা কি চাও?তোমরা কি লুটপাট করতে চাও?সময় থাকতে ফিরে যাও।তোমাদের ধারনা, তোমাদের ভয়ে আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান পদত্যাগ করে তোমাদের হাতে শাসনভার তুলে দেবেন?যদি তোমরা তা ভেবে থাকো তাহলে বোকামি করবে। আমরা কোনো জালেমের হাতে নিজেদের ন্যস্ত করতে ইচ্ছুক নই।'জালেম' শব্দটা আন্দোলনকারীদের মনে আরও তীব্র
বাচ্চাবিক অধিকার।।
ফুটফুটে বাচ্চা একটা— মানুষের বাচ্চা। ধরতে গ্যাছে ফুটফুটে মুরগির বাচ্চা। ফুটফুটে মানুষের বাচ্চাটি কোনোক্রমে ধরে ফেলেছে একটি মুরগির বাচ্চাকে— মুরগির ফুটফুটে কুসুম কুসুম বাচ্চাটি চেউ চেউ করে উঠলো— আহা! বিপদ! মহা বিপদ!! কোনো প্রকার সংশয় দ্বিধা না করে মুরগি আক্রমণ করে বসে মানুষের বাচ্চাটিকে— ঠোকর দিয়ে মানুষের বাচ্চার দুটো চোখ তুলে নিলো মুরগি। কষ্ট পাওয়ার কিচ্ছু নেই— এটি তার মুরগিবিক অধিকার। মানুষের বাচ্চা দিলো মনকাপানো চিৎকার। গোটা দশজন মানুষ নেমে আসলো বাচ্চার কাছে। গোটা দশজনের পায়ের চাপে মুরগি হারালো তার ফুটফুটে বাচ্চা। সব ফুটফুটে মুরগির বাচ্চা মানুষের পায়ের চাপে পিষ্ট হয়ে গেলো— কষ্ট পাওয়ার কিচ্ছু নেই— এটাই তাদের মানবিক অধিকার! মানুষের বাচ্চাটি যে ফুটফুটে মুরগির বাচ্চাটিকে ধরতে গ্যাছে তাতেও আমি কোনো সমস্যা দেখছি না— এটি তার বাচ্চাবিক অধিকার! সমস্যা কোথায় জানেন? বাচ্চাবিক অধিকার! বাচ্চা যখন
এক এবং একাকার
আমি নদীপাড়ের ছেলে। পানসে নদী— মেঘনার সরাসরি সন্তান। মেঘনার মন খারাপ থাকলে যে খুব প্রথমে ফিল করতে পারে সে এই পানসে। মেঘনার আনন্দ যার মনে প্রথম জোয়ার তুলে সে এই পানসে নদী। বর্ষাকালে পানসে নদী আর মেঘনাকে আলাদা করা যায় না— তারা এক এবং একেবারে একাকার। নদী পাড়ের মানুষ বিসর্জনের অর্জন খুব করে উপভোগ করতে পারে— দেখতে জানে বৃষ্টি কত সুন্দর করে নদীর জল হয়ে যায়। আমার চোখের জল যখন তোমার মনে গিয়ে নদী হয়ে যাবে তখন তোমাকে আমার শৈশব যৌবনের বেদনা ও প্রার্থনার পানসে নদী— পানসে নদীটা তোমার নামে লিখে দেবো।
কথোপকথন [ ৫ ]
অর্জুন— ব্যক্তি পাপ করতে না চাইলেও সে পাপকর্ম করতে বাধ্য হয় কি করে? কে তাকে দিয়ে পাপকর্ম করায়? কৃষ্ণ— ব্যক্তিকে পাপকর্ম করায় তার নিহিত স্বার্থ, তার মোহ। স্বার্থহীন কর্মে কোনো পাপ থাকেনা। স্বার্থহীন কর্ম সর্বদা সমাজ-কল্যানকারী হয়৷ অর্জুন— তাই? কৃষ্ণ— হুম। তবে কর্মে যখন স্বার্থমোহ জড়িয়ে যায়, তখন ব্যক্তিকে রাগ-দুঃখ, কষ্ট, হতাশা, জ্বালা, যন্ত্রণা মুহূর্তে মুহুর্তে কুরে-কুরে খায়৷ অর্জুন— তাহলে আপনি রাধার সাথে কোনো অন্যায় করেননি? কৃষ্ণ— পাল্লাগ্রাম বস্তুর ওজন করে। পাল্লাগ্রামকে ওজন করে কে? অর্জুন— কে? কৃষ্ণ— পাল্লাগ্রাম ওজন হয়েই আসে। অর্জুন— আচ্ছা, বুঝতে পারলাম। কথোপকথন [ ৪ ]
মহান নেতা
মহান নেতা। এক মহান নেতা দুপুরের খাবার খেতে বসে— ভাত আর দুটি ডিম। আর কোনো তরকারি রান্না হয়নি সেদিন— এমন সময় দুজন মেহমান আসে— তারাও ক্ষুধার্ত। মহান নেতা তাদের জন্যে দুটি বাসনে ভাত পরিবেশন করে। তরকারি তো নাই! মহান নেতা নিজের দুটি ডিম দুজনকে দিয়ে দেন— মহান নেতার থালায় কেবল সাদা ভাত— একজন মেহমান নিজের আস্ত ডিম থেকে অর্ধেকটা নেতাকে দেন, আরেকজন মেহমান দেন অর্ধেকটা ডিম। ফলে নেতার হয়ে যায় একটা ডিম, আর মেহমানরা খাবার শেষ করে অর্ধেকটা ডিম দিয়ে। ~প্রিয় নেতা ভাই, খাওয়ার লোভটা ছেড়ে দেন— খাওয়ানোর চিন্তা করুন— মৃত্যুর দিন পর্যন্ত জনগণ আপনাকে উপোস রাখবে না— জনগণ উপোস থাকলে আপনাকে না খেয়ে মরতে হবে
আফালের মাছ [ ১২ ]
আমাদের হরতালের দিন কেউ রাস্তায় নামেনি, ঠিকই একটি পাখি রাস্তায় নেমেছিল এবং সবদিক কম্পিত করে বলেছিল ‘হরতাল মানি না’। দুঃখের বিষয় আমরা কেউ পাখির ভাষা বুঝি না। চকচক করলে সোনা হয় না— স্বর্ন চকচকই করে। রাজহাঁস জলের মধ্যে থেকে দুধকে আলাদা করে নিতে জানে— মেয়েরাও ভীড়ের মধ্যে থেকে তার নিজের পুরুষকে আলাদা করে নিতে জানে— তবে রাজহাঁস দুধকে আলাদা করে — মেয়েরা প্রায়ই আলাদা করে জল— ফলে বিয়ের কয়েকদিন পর বালিশ ভেজে যায় জলে। বিয়ে এক উদ্ভট জুয়াখেলা— এই খেলায় দুইপাশে সমান উত্তেজনা— উত্তেজনার উত্তম পরাজয়। মাটির গুনাগুনের উপর নির্ভর করে ফসলের গুনাগুন—ভালো বীজ ভালো মাটিতে শেকড় ছড়ালে ভালো ফসল— কেবল মাটির উপরে ভালো কাজ করলেই মাটির নিচে ভালো থাকা যায় না— মাটিরও রয়েছে কিছু প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ। কারো সাথে