সাদা গোলাপের ওপর বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা পড়লে মনে হয় পৃথিবী আজ খুব আস্তে কথা বলছে — নিষ্পাপ পাপড়ির গায়ে জল জমে থাকে, মুক্তোর মতো নয়— যেন নীরব প্রার্থনার অশ্রু। সে বৃষ্টি শুধু ফুলকে ভেজায় না, ভিজিয়ে দেয় তাকিয়ে থাকা মনটাকেও— কিছু না–বলা স্মৃতি, কিছু অদৃশ্য ভালোবাসা। কিছু সৌন্দর্য ব্যাখ্যা চায় না, শুধু নীরবে ছুঁয়ে যায়। বাচ্চাটির বয়স ছয় কি সাত হবে। বই পড়ছে। বইটিকেমনে হচ্ছে সাদা গোলাপ এবং বাচ্চাটিকে মনে হচ্ছে সেই সাদা গোলাপের উপর অর্পিত প্রথম বৃষ্টির জল। বোম্বাই এয়ারপোর্টে এমন সুন্দর মনমাতানো দৃশ্য দেখে জার্নির ক্লান্তি যেনো বাগানবাড়িতে বিশ্রাম নিতে গ্যাছে। এয়ারপোর্ট দেখছি আর শক্তিশালী হচ্ছি। সে মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছে। এখনকার সময়ের বাচ্চাদের এতো মনোযোগ দিয়ে বই পড়তে দেখা যায় না— দেখা যায় মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত সারাক্ষণ। বোম্বাই
বার বাড়ি
শ্রীলঙ্কার সেই পরিবার
দোতলা যে বাড়িতে আছি আমরা তার নাম ডিনো ভিলা। কাকুর একমাত্র ছেলের নাম ডিনো— ডিলঙ্কা ডিনো জায়া। কাকুর একমাত্র ছেলে মহাকালে মিলিয়ে গেছেন— সে সাতার জানতো না— বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যায় একদিন— ঘুরতে গিয়ে শখের আয়োজনে জলে নামে— জল তাকে খেয়ে ফেলে— আর বাড়ি ফিরেনি কাকুর একমাত্র ছেলে। আহা! আহারে! মা'র যে এক পুত যমে বুঝে না!এখনও ছেলের কথা মনে হলে কান্না করেন কাকু আর কাকি— পৃথিবীর সব মায়েদের কান্নার জল একই রকম— পৃথিবীর সব মায়েদের মমতাঘর একই উপাদানে নির্মিত। বিয়ে করার আগেই ছেলেটি মহাকালের সাথে বিয়ের পিড়িতে বসে। একমাত্র কন্যাটিকে সুন্দর সুপুরুষ দেখে বিয়ে দেন— তাদের ঘরে একটি ছেলে আসে। ছেলেটি দেখতে গুনারত্নার মতো হয়নি। গুনারত্মা (Gunarathma / Gunaratma / Gunaratne- কেমন যেনো মেয়ে মেয়ে নাম বলে শুনায়— এটি কাকুর
জাম্পিং পয়েন্ট গলে ফোর্ট।
সাগর তীরে বসা এক কন্যা। তখন রাত। তার চুল হেলে আছে পীঠের দেয়াল বেয়ে। তার মুখে হাসি। তার শরীরে বয়ে যাচ্ছে আনন্দের ঢেউ। তার বসা যেনো বসা নয় নৃত্যরত মিষ্টি সাপের ফনাফুল। চোখ সরতে চায় না। রাত গভীর হয়। পৃথিবীর শব্দশিবিরে ভাটা নামে— মনের শব্দ একটু একটু করে কথা বলতে শুরু করে। তার মনের শব্দ আমার কানে আসে না— আমার মনের শব্দ তার কানে যাচ্ছে কিনা জানি না—অজানা এক নির্জনতায় আমার ভেতর দিয়ে তাকে আবিষ্কার করার অভিপ্রায় হাজার বছরের চেষ্টার একটি উপায় মাত্র— উপায়ে পাত্তা না দিয়ে উপলক্ষের দিকে যাত্রা করি— আমার যাত্রার উপলক্ষ কাউকে না জানিয়ে তাকে জেনে নেয়া— আমার সফরের লক্ষ্য কাউকে জেনে তার মধ্যে দিয়ে নিজেকে জেনে নেয়ার মতো কোনো এক আলোকিত ভোর। রাত বাড়ছে। পুরাতন এই রাত।
দিল্লির স্মৃতি
সিকিউরিটি ঢুকতে দিবে না। দিবে না তো দিবে না। আমার সাথের তারা আশা ছেড়ে দিয়েছে। আমি শালা সহজে পরাজিত হওয়ার মানুষ না। আমি জানি পৃথিবীতে নিজের ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য কোনো না কোনো উপায় থাকে। জাস্ট আবিষ্কার করতে হয়। আমাদের কেন ঢুকতে দিবে না? কারন আমরা জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না। রেজা ভাই, চলেন চলে যায়... কোনো কথা না বলে সিকিউরিটির কাছ থেকে দূরে গেলাম, গেলাম গেইটের কাছে বসা এক ছাত্রের কাছে। সমস্ত বিষয় খোলাখুলি বললাম। হিন্দি তেমন পাড়ি না। তারপরও আমি আমার বক্তব্য উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। ভূপেন্দ্র দা যথেষ্ট সহযোগিতা করলেন। হামিদ ভাই নিজের আইডি কার্ড দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছে। আমরা জে এন ইউ ক্যাম্পাসে ঢুকতে সক্ষম হয়েছি। ক্যাম্পাসটি মুগ্ধকর। অনেকটাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অথবা চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের টাইপের। তবে চরিত্রগত পার্থক্য তো আছেই। দিল্লি
মানুষের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার মানুষ
মানুষের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার মানুষ। পৃথিবীর সব সৌন্দর্য প্রায় এক। কিন্তু মানুষের সৌন্দর্য বৈচিত্র্যমিত্র। মানুষের হিংসা ভালো লাগে, মানুষের রাগ ভালো লাগে, মানুষের অভিমান ভালো লাগে, মানুষের নির্লিপ্ততা ভালো লাগে। আকাশ যেকারনে আকাশ সেই কারনে আকাশকে ভালো লাগে। মানুষ যে কারনে মানুষ সেই কারন ছাড়াও মানুষকে ভালো লাগে। সৌরজগৎ কসমিক সময়ের কাছে একটি বালির চেয়েও ছোট। আর পৃথিবীর জায়গা তো সেখানে নেই বললেই চলে। মানুষ ত আরও নেই। তবুও মানুষ একটা পারমানবিক বোমার নাম, মানুষ একটা ঐতিহাসিক প্রেমের নাম। কোপাই নদীর সাথে কুমিল্লার গোমতী নদীর বেশ মিল। গোমতী নদী কিন্তু আমাদের ছোট নদী না যে বাঁকে বাঁকে চলে। সন্ধ্যা মাঝি সাঁওতাল বালিকা। দশম শ্রেনির ছাত্রী। তাকে দেখে আমার মাথিনের কথা মনে পড়ে। ধীরাজ বেটা কৃষ্ণের যোগ্য বংশধর হয়তো। এখানে মাথিনকূপ নেই, আছে কংকালীতলা। সন্ধ্যা
প্রত্যেক পথ একটি ভ্রমনের কথা বলে
মাঠের পর মাঠ মাঠের পর মাঠ এবং মাঠের পর মাঠ। ট্রেন চলছে তো চলছে। আসামির মতো বসে আছে, শুয়ে আছে নিজ সিটে তারা। জানালার চোখ দিয়ে সবুজ মাঠে শাদা বকের মতো মন্দির দেখা যায়। শরৎ বাবুর কোনো উপন্যাসের কোনো একটি চরিত্র খুব মনে পড়ছে। আকাশ হতে থেকে থেকে নেমে আসছে জাপানি রোদ। তাহলে বুঝতে পারলুম পৃথিবীর সব জায়গায় কমবেশি রোদ থাকে। এতো রোদের মাঝেও কারা যেন অন্ধকারের চাষ করে। রবিবাবুর অমলের মতো বসে আছি জানালার পাশে। অনেক পথের সাথে দেখা হচ্ছে। অনেক পথ। কোনো পথ সোজা, কোনো পথ অদ্বয়, কোনো পথ পাড়াত আবার কোনো পথে নেমে আসে ধান সবুজ। কোনো পথই মানুষের মনের মতো এতো লোভাতুর নয়। প্রত্যেক পথ একটি ভ্রমনের কথা বলে। আর মানুষ চিনে সীমানা। চোখের সীমানা দিয়ে লাফিয়ে
সিমলার এমনও কুন্তল দেহে…
বলছিলাম তারিক আজিজ আমার উপরের সিটে নামাযও পড়ে আবার পাদও দেয়। বলিনি আরেকটি কথা। তারিক আজিজ বিসিএসের শিটও পড়ে। চাকরিটা তার পেতেই হবে। জানিনা বেলা নামে কেউ তার আছে কিনা যার কাছে চাকরি পেয়ে ফোন দিতে হবে — ‘চাকরিটা আজ পেয়ে গেছি বেলা শুনছো।’ বেলা থাকুক আর না থাকুক তারিক আজিজের জন্য সময় বসে থাকে না। ভ্রমন হোক কিংবা বিয়ে বাড়ি হোক সাধারন জ্ঞান তার মুখস্থ করতেই হবে। সময় কারো জন্য বসে থাকে না। গ্রীন ভ্যালিতে আমরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ আর তারিক আজিজ শিট পড়ছে। বিসিএস ক্যাডার তার হতেই হবে। তারিক আজিজ যাতে ক্যাডার হতে পারে সেজন্যে আমাদের সবার প্রার্থনা অটুট থাকবে ইনশাল্লাহ। ইসলামে আছে মুসাফিরের প্রার্থনা আল্লা কবুল করে। সফরে থাকলে মন একেবারে পবিত্র হয়ে আসে। আসল কথা গতির সাথে
হাওড়ামুখী
বোলপুর থেকে হাওড়ামুখী আমরা। সবার মনেই কেমন একটা ফুরফুরে ভাব। কোনো এক বাউলমুখী মানুষ ওঠলেন আমাদের কামড়ায়। কে ছেড়ে গেলে নাকি কাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না এমন জাতীয় গান ধরলেন। আমাদের স্যার আর সিটে বসে থাকতে পারলেন না। ধরলেন গান, করলেন ভিডিও। এক উৎসবমুখর চেহারা নেমে আসে ট্রেনের কামড়ায়। বাউল নেমে গেলে থেমে যায় কলরব। তনুশ্রী গান ধরে। ওর আবার ক্লাসিক্যাল গলা। এমন গলা সন্ধ্যা অথবা বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি আড্ডায় বেশ আরামদায়ক। ট্রেনের আওয়াজে দরকার এমন গান যা ঝড়জল ঝকঝক আওয়াজের লগে বন্ধুত্ব করে। তাই ধরলাম গান। হামিং সাপোর্ট বেশ পেলাম। আমি আর আমি থাকলাম না। কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম। চারপাশে মানুষ জমে গেল। ইহা এক অন্যরকম অনুভূতি। গান শেষ। বায়তুল্লাহ কাদেরী স্যারের হাত মানিব্যাগে চলে গেল। চকচকে নরম একখান
সিমলার রাস্তায় নির্জন রাত
তিনি শ্রমজীবী মানুষ। দিনে সাপ্লায়ার। রাতে ডিম বিক্রি করে। সংসার চালাতে তারপরও অনেক কষ্ট। কিন্তু সিমলার মাটি বাতাস তাকে হাসতে মানা করে না। খুব সহজ মিশুক তিনি। এতো রাতে কে ডিম কিনতে আসে এটা গভীর ভাবনার বিষয়। কারন রাত আটটার পর পাহাড়ি সিমলা খুব একা হয়ে যায়। নদীর পাড়ের মানুষের মতো এই কর্মকার কাকুর কলাগাছিয়া দৃষ্টি। খুব সবুজ। তাহলে বুঝতে পারি নদী আর পাহাড় সমানুপাতিক লেন্সের দৃষ্টি উৎপাদন করতে পারে। কাকুর পাশেই আরেকজন ছিলেন যিনি কোনও প্রকার ছবি তুলতে রাজি না। মনিহারি দ্রব্যের ব্যবসা করেন। কেউ ছবি তুলতে অস্বীকার করলে আমার দুজনের কথা মাথায় আসে। একজন হলেন রুমী। রুমী মানে মাওলানা রুমী না। রুমী মানে আমগো জাহানারা ইমামের পুলা। জাহানারা ইমাম আমাদের জানিয়েছেন রুমী ছবি তুলতে এতো রাজি ছিলেন না, কারন








