বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের দিনাজপুর শহরের রেস্ট হাউজটি বা পর্যটন মোটেলটি ভালো— ভালো বলতে দিনাজপুর শহরে এর চেয়ে ভালো মোটেল কিংবা রেস্ট হাউজ আর নেই— তবে সে আরও ভালো হতে পারতো— রুমে সেই পুরাতন এসি— সেই পুরাতন সামগ্রিক সেটআপ— তোয়ালে থেকে শুরু করে নুয়ালে পর্যন্ত। পরিবেশ নিরব শান্ত, নিরাপত্তা পদ্ধতি যথেষ্ট ভালো। কিন্তু সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পর্যটন মোটেল দিনাজপুর আপডেট হতে পারেনি। সকালে ঘুম থেকে উঠি নয়টায়— তারপর নাস্তা খাওয়ার পালা— নাস্তায় দুটি রুটি একটি ডিম একটি পানির বোতল এক কাপ কফি— বাড়তি একটি রুটি খেতে গেলেও এক্সট্রা বিল পে করতে হবে! অথচ এক রাতের জন্য তারা আমার কাছ থেকে নিয়েছে তিন হাজার দুইশো টাকা!! নাস্তা খেয়ে অটোরিকশা করে যাত্রা করি কান্তজিউ মন্দিরের উদ্দেশ্যে— আগে কান্তজিউকে বলতাম কান্তজির। মাত্র দুইশো টাকায় আসা-যাওয়া
বসত বাড়ি
সিগ্রেট ও পুরুষ
ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাজ শেষ করে বাংলাদেশে পা রাখলাম। দূর পথের যাত্রায় আমার একমাত্র বাহন ট্রেন। এখন তো বাসে ওঠতেই হবে। কারণ বাস ব্যতীত যশোরের বেনাপোল টু ঢাকা আসার অন্য কোনো সহজ বিকল্প পথ নেই। ভাবছি কী করবো। মনকে বললাম হাজার হাজার লোক বাসে চড়ে, আমিও চড়তে পারবো। আর যদি বমি করি তাতে কী, বমি হতেই পারে। বমি করবো এমন একটি মানসিক প্রস্তুতিও শেষ। সোহাগ কাউন্টার থেকে হিমেল দুটি টিকিট নিল। তাও আবার এসি বাস। সাধারণ বাসে যদিও বমি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, এসি বাসে বমি হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। বাসের পেছনের দিকে আমাদের সিট। আজকে মৃত্যুর স্বাদ নিতেই হবে। মৃত্যুর স্বাদ বললাম এই কারণে যে মৃত্যুর সময় শুধু আত্মা বের হতে চাই, আর বমির সময় আত্মাঘর যেন বের হওয়ার জন্য কমিটি গঠন করে। বাসে
মায়াভরা সুরের রাধাশ্যাম আহ্বান
কবুতর শান্তির প্রতীক— এমনটাই বলা হয়ে থাকে— এমনটা বলার পেছনে অনেক কাহিনি রয়েছে— ইসলামিকসংস্থা একধরনের কাহিনি বলে— সমাজবিজ্ঞানী একধরনের কাহিনি বলে— রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরা নিশ্চয়ই আরেকধারার কাহিনি বলবেন। তবে আমার কাছে একটি কথা খুব ভালো লেগেছে— কবুতর পরকীয়া করে না— কবুতর সঙ্গী বদল করতে চায় না— সঙ্গী মারা গেলেও নতুন সঙ্গী নিতে বা তাকে দিতে বহু জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তাই কবুতর শান্তির প্রতীক। নাফার খুব প্রিয় কবুতর। কারন একটাই। কবুতর পরকীয়া করে না। নাফার খুব ভালো বন্ধু তুন ইয়াত। তুন ইয়াতের সাথে নাফা আজ ঘুমধুম গ্রামে যাবে। বাড়ির বাইরে-টাইরে সে খুব একটা যায় না— যাওয়ার ইচ্ছা হয়। আজ সে যাবেই। তারা যাত্রা শুরু করে। পাহাড়ি রাস্তা তাদের চেনা। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা পৌঁছে যায় ঘুমধুম গ্রাম। গ্রাম ভালো লেগে যায়
নিরীহ পিস্তল হাতে দাড়ানো অসহায় দারোয়ান
এখন অনেক রাত। অনেক বলতে রাত দুইটা ত্রিশ মিনিট। ঘুমানো দরকার। ঘুমাতে যাবো এমন সময় চোখে বার বার নেমে আসে কুড়িগ্রামের চরমানুষের জীবন। ঠিক এই মুহূর্তে চরের অধিকাংশ মানুষ জেগে আছে। কারন তাদের গবাদি পশু চুরি হয়ে যেতে পারে। চরের মানুষ সন্ধ্যা সাতটার সময় ঘুমিয়ে যায়। তাদের প্রথম ঘুম ভাঙে রাত এগারো থেকে বারোটার মধ্যে। তারপর কেউ কেউ জেগে থাকে কেউ কেউ ঘুমায়। যারা জেগে থাকে তারা কেমন করে উজানে একটা ভিটেমাটি কেনা যায় তা নিয়ে গল্প বানায়, আর যারা ঘুমায়— জলের টানে ঘর ভেসে যাচ্ছে এমন ঘামদেয়া খোয়াব দেখে। চরের মানুষের কাছে উজান মানে ইউরোপ আমেরিকা— রংপুর বিভাগের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মানে বিদেশ। আমরা যাচ্ছি মোহাম্মদ মেম্বরের চর। অলিপুর বাজার থেকে আধা ঘন্টা অটোতে অনন্তপুর, দেড় ঘন্টা ইঞ্জিন নৌকায়।
টিকেট তো কাটিনি!
টিকেট না কেটেই কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশনের প্লাটফর্মে ঢুকলাম। গেটে সাদা পোশাক পড়া মানুষের অবস্থান। অনেককে অনেক কিছুই বলছে, টিকেট চেক চলছে কিন্তু আমাদেরকে কিচ্ছু বলেনি। হয়তো তার পেছনে কোনো আধ্যাত্মিক ঘটনা আছে। আধ্যাত্মিক ঘটনা এক: জীবন দার পিঠে গিটার ঝুলছে। আমার চেহারায় ভদ্রলোকের লেবাস। সুতরাং আমরা টিকেট না সংগ্রহ করে প্লাটফর্মে অবস্থান করতে পারি তা অবিশ্বাস্য। আধ্যাত্মিক ঘটনা দুই: এটি বাংলাদেশ রেলওয়ে। পুরো বাংলাদেশেই আধ্যাত্মিক ঘটনার মহড়া চলে। জীবন চোধুরী অবাক হলেন। কারণ ইন্ডিয়ান প্লাটফর্মে কোনোদিন তিনি টিকেট ব্যতীত অবস্থান করেননি। জীবন চোধুরী কেন, কোনো ইন্ডিয়ানও প্লাটফর্ম-টিকেট ব্যতীত প্লাটফর্মে অবস্থান করার মতো মানসিকতা রাখে না। আমরা যে ট্রেন দিয়ে যাত্রা শুরু করবো তার নাম মহানগর গোধূলী। শোভন সিটে দুজন মুখোমুখি বসলাম। ট্রেনে বসলেই আমার তার কথা মনে পড়ে যে কথা দিয়ে কথা রাখে নি,
অক্ষবাট কিংবা আখড়া
অক্ষবাট। আখড়া। অক্ষবাট কিংবা আখড়া মানে অনুশীলনের জায়গা। আস্তানা অর্থে আখড়া শব্দটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আখড়া শব্দটি ব্যায়ামঘর অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আখড়া শব্দটি সন্ন্যাসীদের আশ্রম অর্থেও ব্যবহার করা হয়। তবে বাংলাদেশের মানুষ কোনো প্রকার আগার পাগার চিন্তা না করে আখড়া বলতে এক কথায় বুঝে পাগলদের মদ গাজা খাওয়ার জায়গা। হুমায়ূন ফকির একজন লালন প্রেমিক ছিলেন। এখনো হয়তো আছেন। কারন শক্তির বিনাশ নেই। তবে শক্তির রূপান্তর রয়েছে। তাই 'হয়তো' শব্দটি ব্যবহার করেছি। মানুষ মরে গেলে মানুষই থাকে কিনা তা নিয়ে ব্যাপক বাহাস হতে পারে। কারন প্রজাপতি যা থেকে জন্ম হয় তার প্রতি আমার ঘৃনাবোধ রয়েছে কিন্তু প্রজাপতির প্রতি আমার আসক্তি প্রবল। হুমায়ূন ফকির আজ পর্দার আড়ালে। তিনি যখন জীবিত ছিলেন তখন তার সাথে আমাদের প্রথম দেখা এমনই দিনে আজ থেকে সাত
রাত তখন এগারো
চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইবার আসলাম। তিন বছর আগে এসেছিলাম ছোট বোনকে ভর্তি করানোর জন্য, আবার এইবার আসলাম আমাদের সবার ছোট বোনকে ভর্তি করানোর জন্য। আগে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার ধারনা ছিল গুড বেটার বেস্ট জাতীয় স্কেলে। এখন সিদ্ধান্তে অবস্থান নিয়ে কিছু কথা বলা যেতেই পারে। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান অর্জনের জায়গা না, জ্ঞান চর্চার জায়গা। মানুষ জ্ঞান অর্জন করে মানুষের কাছ থেকে, তার পারিপার্শ্বিকতার জায়গা থেকে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মানুষ কখনো জ্ঞান অর্জন করতে পারে না। অর্থাৎ জ্ঞান অর্জনের জন্য একটি পারিবারিক বলয়ের প্রয়োজন হয়ে থাকে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পারিবারিক বলয়ের এক জীবন্ত ব্লাকহোল— এখানে সবাই আসে বিচ্ছিন্ন মানসিকতা নিয়ে কিন্তু এক পারিবারিক মানসিকতা নিয়ে বের হয়ে যায়। চলনে বলনে এমন যৌথ খামার পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল যদিও বিপুলা এই পৃথিবীর কতটুকু আর জানি। পাহাড় থেকে জুদা হওয়া এক
মিডিয়া ও তার টিআরপি
মোস্তফা রহমান আরজু। এলাকায় পরিচিত আরজু মাস্টার নামে। তিনি আর এখন নেই। তিনার ছেলে ইমরান এখনো আছেন। ইমরান মামা। ইমরান মামাকে আমি কোনোদিন দেখি নাই। নাম শুনেছি। এখন ইমরান মামার রুমে ঘুমাতে যাচ্ছি। কানে আসতেছে গোবিন্দ জপনাম— হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ। আজ সারা রাত গোবিন্দ জপনাম চলবে। চব্বিশ প্রহরের আজ শেষ দিন। মাইক বাজতেছে। বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ কোথায় আছেন জানি না। ভক্তকুল কৃষ্ণ কৃষ্ণ জপ করতে করতে হাওরের চাদের মোলায়েম জোছনাস্নানে বিকীর্ন করছে হৃদয়। যে রুমে ঘুমাতে যাচ্ছি তার পাশে একটা ঘর, তার পাশে গোবিন্দ জপমালা চলছে। শুনে হয়তো অনেকে অবাক হবেন এই কারনে যে এই গ্রামটির নাম চৈয়ারকুড়ি যা নাছিরনগর উপজেলার অধীনে। ইদে মিলাদুন্নবী তথা হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভ জন্মদিন ছিল একদিন আগে। এই উৎসবের কারনে মিল্লাদুনবী এশার
সো বি রেডি এন্ড ফাইট
ভ্রমন বা টুর বলতে অনেকে যা অনুধাবন করে বা মিন করে আমাদের এই টুরটা ঠিক তেমন না। আমরা যাচ্ছি সিলেটে। উদ্দেশ্য। প্রধান উদ্দেশ্য একটাই— ছাতক হাফ ম্যারাথনে অংশগ্রহন করা। হাফ ম্যারাথন বলে আসলে কিছু নেই। হাফ ম্যারাথন শব্দটা বানানো। ম্যারাথন ইজ ম্যারাথন— ৪২ কিলোমিটার। আমি দৌড়াবো ২১ কিলোমিটার, রাই দৌড়াবে দশ কিলোমিটার। রাইয়ের সাথে যাচ্ছে তার পরিবার সমগ্র। রাইয়ের পরিবার সমগ্রের সাথে বলতে গেলে আমি গেস্ট। ঠিক গেস্ট না— গেস্ট টাইপের। ভৈরব থেকে ট্রেনে উঠি। পুরো কেবিন আমাদের দখলে। ভালো একটা ঘুম দিই। ট্রেনের কেবিনে ঘুমানো আর মেঘে ঘুমানোর মধ্যে অমিল অনেক থাকলেও মিল তো আছেই। ঘুম থেকে উঠে ট্রেনের খাবারের কেবিনে গিয়ে ছয়টি কাকলেট খাই। ট্রেনের সবজি কাকলেট আমার খুবই প্রিয়— ঝাল ঝাল কোল কোল। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে যখন আমরা পা
অবিশ্বাসের চাষ
ভয়ঙ্কর এক রোদ মাথায় নিয়ে আমরা নদী পার হলাম। পৃথিবীতে তখন জঙ্গল বলে কোনো প্রানি নেই। সবই বালু আর বালু। আই মিন মরুভূমি। হাতে প্রচুর বিদেশি টাকা জমা হওয়ার কারনে ব্যাংকের লকার ভরে গ্যাছে বালুতে। আই মিন মরুভূমিতে। তাই যেখানেই আমরা পা রাখি সেখানেই বালু আর বালু। আই মিন মরুভূমি। মরুভূমি মানে জলের অবিশ্বাস। মরুভূমি মানে অক্সিজেনের অবিশ্বাস। দেশে এখন বালুর পাশাপাশি অবিশ্বাস চাষ হচ্ছে। একটা কুকুরকে নিজের মুখের খাবার দিতে গিয়ে নিজেই হকচকিয়ে গেলাম। কারন কুকুর আমাকে ভয় পেয়ে দশ হাত দূর দিয়ে চলে গেছে। এটা কুকুরের অপরাধ নয়— কুকুরের পারিপার্শ্বিকতার প্রভাব। অপরাধ আর নৈতিকতা এক কথা না। নৈতিকতার কারনে অনেক দোকানকে আমরা প্রতিষ্ঠান বলি। নদী পার হতে হতে আমরা ভাবছি দেশে আর কৃষি জমি থাকবে না। কৃষক আর কৃষক থাকতে