অভিজিৎ সেনের সিনেমা 'প্রধান '— তার সিনেমা আগে দেখিছি বলে মনে পড়ে না— সামাজিক আবহের আদলে রাজনৈতিক ছায়াবরনে মারপিটধর্মী নাট্য চলচ্চিত্র 'প্রধান'। তবে মারপিট কিন্তু একেবারে অবাস্তব স্টাইলের ধারণাকে বাস্তব করে দেখানোর প্রয়াস দেখাননি প্রধানের পরিকল্পনা টিম। প্রধান সিনেমায় ইনডোর শর্টগুলো তরতাজা ফিল দিয়েছে। যেহেতু ইমোশনাল প্রেক্ষাপট নির্মাণ এই সিনেমায় চরিত্র নির্মানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেহেতু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দায়িত্বশীল উপায়ে। অনির্বাণ চক্রবর্তী বা জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায় একজন রাজনীতিবিদ এবং ধর্মপুর গ্রামপরিষদের পঞ্চায়েত প্রধান— তার অভিনয় বিশেষ করে ইমোশন প্রকাশ খুবই দুর্দান্ত— কথা ছন্দে ছন্দে বলতে পছন্দ করেন। জলপাইগুড়ির ধর্মপুর গ্রামটা কিন্তু খুবই সুন্দর— পাহাড় ও সমতলের দারুণ মিশ্রণ। ক্যামেরাতে যে ধর্মপুর এলাকা দেখানো হয়েছে তা খুবই সীমিত— আরও বড় পরিসরে দেখানো যেতো। দেব বা দীপক প্রধান— ধর্মপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা— তাকে
ছায়াছবি
লাসভিয়াস
আমার পাশে যে মেয়েটি বসে আছে তার নাম আযহা। তাকে জিজ্ঞেস করলাম আজহা মানে কী? বললো, সাইনিং সামথিং। আজহা সরকারি চাকরি করে— মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো এক গোপনীয় বিভাগে। অবাক হয়ে গেলাম মানুষের ভীড় দেখে— অলিম্পাস মালে শহরের প্রাচীনতম সিনেমা হল। ইদানিং সংস্কার করা হয়েছে— আগে পরিবেশ ততটা নান্দনিক ছিলো না। লাসভিয়াস ধিবেহী শব্দ যার অর্থ যদিও দেরি হয়ে গেছে— Though It's late. এই সিনেমা দেখতে গিয়ে জীবনে প্রথম ধিবেহী ভাষা টানা তিনঘণ্টা শুনলাম। প্রথমবারের মতো পরিচিত হলাম মোহাম্মদ নিয়াজ টেডির সাথে— সে সিনেমাটির পরিচালক ও লেখক। আহমেদ ইশা এবং ওয়াশিয়া মোহাম্মদ অসাধারণ অভিনয় করেছে। আহমেদ ইশা অভিনয় করেছে মোহাম্মদ ইকবাল নামে আর ওয়াশিয়া মোহাম্মদ অভিনয় করেছে ইউশরা নামে। মিউজিক করেছেন মোহাম্মদ ইকরাম। এই সিনেমার বলতে গেলে তেমন কোনো গল্প নাই। গল্প থাকলেও
ডেইজি সরকারের ‘পরাণ’
ডেইজি সরকার সক্রিয় চরিত্র। ডেইজি সরকারকে কেন্দ্র করে সব চরিত্র প্রান পেয়েছে। রোমান একজন গুরুত্বপূর্ণ মাস্তান হয়ে উঠে ডেইজি সরকারের কারনে আশ্রয়ে— ডেইজি সরকারের আড়ালে রয়েছে আরও শক্তিশালী কোনো এক সরকার যাকে দেখা যায় না কিন্তু তার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। পলিটিক্যাল স্রোত এবং আইনের বইগন্ধ যে একই গতিপথ খুজে নিয়ে থাকে বাংলাদেশে তা রায়হান রাফি অত্যন্ত চমকপ্রদ ইঙ্গিতপূর্ণ উপায়ে পর্দার সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে পরাণ সিনেমার আলোকে। প্রথম দর্শনে মনে হতে পারে পরাণ একটি প্রেমের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সিনেমা। আসলে সিনেমাটি প্রেমের পরিনতি থেকে শুরু হয়েছে এবং শেষ হয়েছে পরিনতির কারন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে— কজ এন্ড ইফেক্ট। একজন ডেইজি সরকারের সামনে রোমান মাত্র একখান কুফির আলো— ফু দিলেই নিভে যাবে এবং গ্যাছেও বটে— একজন রোমান ডেইজি সরকারের সরাসরি মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধি— রোমানের সামনে
মিশন এক্সট্রিম ও অন্যান্য…
মিশন এক্সট্রিম। একটি সিনেমার নাম। পরিচালক ফয়সাল আহমেদ। রচয়িতা সানী সানোয়ার। চিত্রনাট্যকার সানী সারোয়ার। এই সিনেমার মধ্যে দিয়ে মিস বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর চলচ্চিত্রাঙ্গনে অভিষেক ঘটে। এই সিনেমায় আমরা জিয়াদুলকে দেখতে পাই। জিয়াদুলের পারিবারিক নাম সৈয়দ নাজমুস সাকিব। সাকিব জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র। এখন একটি কলেজের ইংরেজির শিক্ষক— তার মিমিক করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে— শুনতে পেয়েছিলাম ভাইব্রাদারদের মাধ্যমে। এই সিনেমায় জিয়াদুল বিপদগামী মতবাদধারী যুবক। সিনেমায় সে বেশি সময় বাচতে পারেনি। তার মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। সানী সারোয়ার পুলিশ মানুষ। এসপি, অপারেশন, এন্টি টেরোরিজম ইউনিট। এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) হলো উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে গঠিত বাংলাদেশ পুলিশের একটি শাখা। বাংলাদেশে কাউন্টার টেরোরিজমের ন্যাশনাল ইউনিট হিসেবে এটির কাজ করার কথা— ২০১৭ সালে ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশের
আয়নাবাজি ও চড়ুই পাখির গান
বাংলা সিনেমা হিসাবে আয়নাবাজি যথেষ্ট ভালো হয়েছে এমন কথা আমি বলতে রাজি না। বলতে পারি বাংলা সিনেমার এই ক্রাইসিস মুহুর্তে আয়নাবাজি বাংলাদেশীদের স্বাদ ধরতে পেরেছেন অমিতাভ রেজা চোধুরী। বাংলা সিনেমার দর্শক নাই এমন কথা আর মুখ বড় করে বলতে পারবে না হল মালিকেরা। আয়নাবাজিতে আয়না ভালো অভিনয় করেছে। আয়নার কস্টিউম ভালো ছিল। ভালো হবে না কেন! সুদূর কলকাতা থেকে কস্টিউম ইঞ্জিনিয়ার আমদানি করা হয়েছে। অতি অল্প খরচে ভালো কিছু করা সম্ভব এমন সত্যের মুখোমুখি আমরা বারবার হয়েছি। সুখ শান্তির জন্য যারা মঙ্গলগ্রহে বাড়ি বানাতে ইচ্ছুক তারা আসলে আজাইরা মানুষ। দর্শক বরাবরই সিনেমাতে বাস্তব কিছু চায়। যে সমাজের চোখের সামনের ঘটনা দেখার ক্ষমতা নাই তাদেরকে রাডার সেটেলমেন্টের কাহিনি শোনালে দেশ একেবারে উন্নত হয়ে যাবে এমন বলি আওড়ানোর সময় এখনো আসেনি। আয়নাবাজি ছায়াছবিতে খরচ তেমন
৮.৮- এর বনগাঁ লোকাল
পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন আলোর পরম্পরা। সমাজ অন্ধকারের ভয়াল থাবা থেকে বেরিয়ে আসুক অধিকাংশ মানুষ চায়। কারণ পৃথিবীতে খারাপ মানুষের সংখ্যা আসলেই অল্প। ভালো মানুষের সংখ্যা বেশী। তবে বেশী ভালো মানুষের বিশাল অংশ নিরীহ। মেরুদণ্ড নেই। সহজভাবে বললে মেরুদণ্ডহীন ভালো মানুষ। এমনি মেরুদণ্ডহীন ভালো মানুষ আমাদের অনন্ত দাস (তাপস পাল)। ছাপোষা কেরানি। নিজের চেহারা আয়নায় দেখে শান্তি পাই। বউ, সন্তান আর বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে তার সংসার। সাদা সাদা মিথ্যার মতো ছোট ছোট অপরাধ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে অনন্ত দাস। নিজের অধিকার যে পরিপূর্ণ আদায় করতে পারে এমন নয়। তাইতো ভদ্র মানুষের প্রতিনিধি (মুখোশধারী) দুলাল দার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করতে পারেনি, একবার অনেক নকশা করে বললেও দুলাল দা অস্বীকার করে। নিজের জীবনে হুমকি আসবে এমন কিছু করতে রাজি নয় অনন্ত দাস।
নীল আর লাল বেদনার দোকানদারি
আইস যখন ক্রিম হতে চায় তখন আইস এবং ক্রিমের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক থাকতে হয়। সম্পর্ক অবশ্যই দুইমুখী হওয়া চায়। একমুখী সম্পর্ক কখনোই সম্পর্ক না। দুইমুখ যখন একদিকে আসে সম্পর্কে তখনই বোঝাপড়া বিষয়টি দেখা দেই। বোঝাপড়া যখন চমৎকার থাকে তখন সম্পর্কের স্রোত গতিময় হতে বাধ্য। বোঝাপড়ায় ঝামেলা থাকলে বিল্ডিং যতই রমরমা কিংবা উঁচুতে থাকুক না কেন বিল্ডিং সামান্য ভূমিকম্পে ধ্বসে পড়তে বাধ্য। রেদওয়ান রনির আইসক্রিম মুভিটি সাম্প্রতিক রিলেশন অর্ফে প্রেমের সম্পর্কের একটি দিক তুলে ধরেছে। মুভিতে ফাইটিং দৃশ্য নেই, তেমন নাচ গানের নৃত্যময় হলুদ নীল রুমও নেই কিন্তু যা আছে তাহলো জীবন। দৃশ্য চলছে, ঘটনা কাহিনিময় হয়ে ওঠছে, দর্শক হৃদয়ে ফাইটিং চলছে, চলছে নীল আর লাল বেদনার দোকানদারি যার ক্রেতা বিক্রেতা দর্শক নিজেই, রেদওয়ান রনি এখানে একজন আয়োজক মাত্র। প্রত্যেক কিছু তার নিজ নিজ কক্ষপথে
ওয়াজদা এক বিপ্লবের নাম
আরবি শব্দ وجدة, যার অর্থ দাঁড়ায় এমন একজন নারী যে তার অস্তিত্ব খুঁজে পায়। অস্তিত্ব মানে সাহস যা মানুষের মৌলিক গুন। একমাত্র সাহসই মানুষের চরিত্রের মৌলিক দিক যা মানুষের চরিত্রের অন্য দিকগুলোকে হেফাজত করে বা বিকশিত করে তুলে। তাহলে ওয়াজাদা সিনেমায় কে সাহসী বা অস্তিত্ববান? অবশ্যই হাইফা আল মনসুর। কারন অনেক। তবে তার দূরদর্শী মানসিকতার সাথে সর্বময় দৃষ্টিকোনের দিকটি গুরুত্বপূর্নভাবে আলোচনার দাবি রাখে। ওয়াজাদা একটি সিনেমা। দশ বছরের একটি মেয়ের সাইকেল কেনার কাহিনিকে মূল বিন্দু ধরে সৌদি আরবের জীবনাচার তুলে ধরার প্রয়াসই ওয়াজাদার প্রধান চরিত্র। এই সিনেমার লেখক ও পরিচালক হাইফা আল মনসুর। হাইফা আল মনসুরের বাবা একজন কবি। ফলে ছোটকাল থেকেই সৌদি আরবের ধুলাবালির ভেতর যে জীবননাশকারী সাপ লুকিয়ে আছে তার সন্ধান পেয়েছিলেন হাইফা আল মনসুর। তাইতো নির্মান করেন প্রথার বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষনাকারী
প্রেমই পারে মায়া বেগমকে মায়াবতী করে নিতে
তিনশত দুই। তিনশত সাত। তিনশত ৫৪। বাংলাদেশের মানুষের কাছে অধিক পরিচিত তিনটি ধারা। তবে তিনশত দুই ধারা খুব বেশি পরিচিত। দন্ডবিধির তিনশত ৫৪ ধারাটি ইদানিং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারন আগে বাংলাদেশের নারীরা নিজের শরীরকে ইজ্জতের প্রথম এবং শেষ মূলধন মনে করতো। এবং এই মূলধনের উপর কোনো প্রকার আক্রমন মানে তাদের জীবন শেষ। এই মূলধন কোনো প্রকার চুরি বা ডাকাতি হলে মৃত্যুই প্রথম এবং শেষ অবলম্বন মনে করে তারা মাটিতে মিশে যাওয়ার নিয়তে যাত্রা করতো। নারীর দৃষ্টিভঙ্গিররর বদল হয়েছে। এখন তারা প্রতিবাদ করতে শিখেছে। অবশ্যই সব সময়ই প্রতিবাদের আড়ালে অসৎ নিয়তের বান্দা থাকে যারা নিজের মানসিক অসুস্থতাকে প্রতিবাদের নামে বিক্রি করতে চায়। এই তিনটি ধারাকে কেন্দ্র করে 'মায়াবতী' জোয়ার পেয়েছে। মায়াবতী মূলত মায়া'র প্রিন্সেস মায়া হয়ে উঠার এক জীবনস্রোত। অরুণ চৌধুরী মায়াকে তাঁর