বাঘের বাচ্চা— হরিনের জঙ্গলে আগুন লাগলো! বাঘ— তাহলে বেশ ভালো। বাঘের বাচ্চা— কেনো ভালো!? বাঘ— হরিণ বাচতে চাইবে এবং আমাদের জঙ্গলে চলে আসবে: কষ্ট করে আর হরিণকে ধরতে হবে না। বাঘের বাচ্চা— শুধু কি হরিণ আসবে? আগুন আসবে না!? আগুনের প্রশ্নে বাঘ চুপ। আসলেই তো— হরিন আসার আগেই আগুন চলে আসবে! বাঘ দৌড়ে গেলো দরবেশের কাছে। দরবেশ জঙ্গলে ধ্যান করছেন। দরবেশের ধ্যান ভাঙানো অন্যায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় ন্যায় হলো প্রান বাচানো। বাঘ— হে মহান দরবেশ, হরিনের জঙ্গলে আগুন লেগেছে! দরবেশ— তোমরা তোমাদের বাসস্থানে যাও, দেখছি আমি কি করা যায়। দরবেশ লোকালয়ে গেলো এবং জঙ্গলে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করে। দলে দলে মানুষ নেমে আসে জঙ্গলে এবং মানুষের সর্বশক্তি দিয়ে আগুন দমন করে। আগুন নিভে যায়—জঙ্গলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে— দরবেশ আবার ধ্যানে বসেন— বাঘ আবার হরিণের মাংস খাওয়ার
গল্প
যুক্তির শক্তি বনাম শক্তির যুক্তি
রাজাপুর গ্রামের জঙ্গলে দশটি গরু মরে পড়ে আছে— কাক দেখতে পেলো— একটি কাক নিজের চোখ ভরে মন ভরে খেয়ে নিলো মাংস— খাওয়া শেষে ভাবলো অন্য কাকদের খবরটি জানাতে হবে— দ্রুত উড়াল দিয়ে নিজের কাকগ্রামে ছুটে গেলো— সবাইকে পর্যাপ্ত মাংসের খোঁজ নিয়ে কথা বললো। কাকদল ছুটে এলো রাজাপুর গ্রামে— গ্রামের জঙ্গলে— এসে দেখে শকুন আর শকুন। কাকদল অসহায় চোখে শকুনের মাংস খাওয়া দেখে। কাকদের সভাপতি বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না— জরুরি মিটিং ডাকে— মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় শকুনের এমন ভোগবাদী মানসিকতা মেনে নেয়া যায় না— তাহলে কী করা!? আমরা শিয়ালের সহযোগিতা নিবো। যেমন সিদ্ধান্ত তেমন কাজ। শিয়াল ভাই শিয়াল ভাই। কী হয়েছে? এতো অস্থিরতা কেনো? রাজাপুর গ্রামে মাংসের ঢল নামছে। তাই নাকি? হুম। তাইতো দেখে আসলাম। শিয়ালদল রাজাপুর গ্রামে যেতে না যেতে শকুন উধাও। কিন্তু শকুনদল গরু খেয়ে ফেলছে
স্টেশনের নিরাপদ নির্জনতা
একটি বেকার স্টেশন— একটি বেকার স্টেশনে বসে আছি—কতিপয় মৌমাছি টেবিলে বৈকালিক খেলাধূলা ছেড়ে খাওয়াদাওয়াতে ব্যস্ত। ট্রেন আসতে অনেক দেরি। একজন দোকানি মহিলার সাথে স্টেশনের হকার এক লোকের তুমুল বাকযুদ্ধ চলছে। নিশ্চিত হকার লোকটির রাতে ঘুম হয়নি। হকার লোকটির ভাবসাব এমন যেনো সে প্রতিবাদী আন্দোলনের সম্মুখযোদ্ধা। ট্রেন আসতে অনেক দেরি। রোদের ছায়া পশ্চিম দিকে হেলেদুলে পড়ছে। হকার লোকটির রাগ বাড়ছে— তিন নাম্বার থেকে একেবারে সাত নাম্বার বিপদ সংকেত— দোকানি মহিলার বাড়ছে অসহায়ত্ব—চোখে জল তার টলমল। হকার লোকটির রাগভাব একেবারে দমন করে স্টেশনের এক হুজুর দোকানি— সেরের উপর সোয়া সের। প্রায় এক মাস পর আবার স্টেশনে হিজরা দেখি— তাও আবার বোরখা হিজাব পরিহিত অবস্থায়। দোকানি মহিলাটি খাবার খাচ্ছে— দুপুরের খাবার— তাও আবার বিকালবেলার চশমাপরা সময়ে। ট্রেন আসতে অনেক দেরি। স্টেশনের নিরাপদ নির্জনতা আর কবরের হাইফেন রূপকথার মধ্যে
আহো, আহো
শীত পড়ছে। কাম নাই। তবু সাফিয়া প্রতি সন্ধ্যায় ঘর থেকে বের হয় কামের নাম করে। তার সন্তান ও প্রতিবেশীরা জানে সাফিয়া বারডেম হাসপাতালে কাজ করে। মূলত সাফিয়া হাসপাতালে কোনো কাজ করেনা। সাফিয়ার কামের জায়গা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মাঠ, মাঠের নির্জন প্রান্তর। সাফিয়ার গতরে শীতল কুয়াশা, কণ্ঠ বসে আসতে চায়। তবু সাফিয়া হাক তোলে, লাগাইবা? আহো, আহো সাফিয়ার ‘আহো’ শব্দটি ঘন কুয়াশায় ধাক্কা খেয়ে তারই দিকে ফিরে আসে। গভীর রাতে সাফিয়া বাড়ি ফিরে যায়, দরজায় কড়া নাড়ে। ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুলে ক্লাস সেভেনে পড়ুয়া রোদেলা। রোদেলা মারে জিগাই, আম্মা, দিনে কাম করবার পার না? আম্মা ফেলফেল করে তাকিয়ে থাকে, দারিদ্র্যভরা কণ্ঠে উত্তর দেয়, রইদের তাপ যে গতরে সহ্য অইনা মা
গোধূলির কান্না
একতরফা বৃষ্টি হওয়ার কথা। বৃষ্টি হবে হয়তো। ভাদ্র মাস বলেই সন্দেহ। ভাদ্রের সূর্য, বৃষ্টি, ভ্যাপসা গরম অর্থাৎ তার কোনো আচরণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কথা বলা যায় না, ছন্দহীনের মতো ছন্দময়। আমাদের গ্রামে এক আলোচিত সাবালক আছে। সাবালক মেয়ে। এখনো বিয়ে বসেনি। কোনো ছেলে হয়তো তাকে বিয়ে করতো। কিন্তু! সে নিজেকে ব্যতীত অন্য কাউকে পরিচ্ছন্ন মনে করে না। সবার আচরণে, পোশাকে যেন ময়লা। সালুনি স্নান করতে যায় রাতে। স্নান শেষে ঘরে আসার আগ পর্যন্ত কেউ যেন তাকে দেখতে না পায়। মানুষের চোখেও ময়লা আছে তার ধারণা। বাড়ি টু বাড়ি ঘুরাঘুরি তার দৈনিক ডিউটি। প্রত্যেক বাড়ির মুরুববী গিন্নির সাথে তার উঠা-বসা। প্রত্যেক বাড়িতে তার আলোচ্য বিষয় ময়লা। কার শরীরে, মনে কী পরিমাণ ময়লা লেগে আছে। গিন্নিরা ময়লার আলোচনা শুনতে বেশ সুখ পায়, এই সুখ যে অহংকারের। হায়রে অহংকার! মানুষ
ধন্যবাদ জানানোর মনোভাব
আমার সিট নাম্বার প্রথম চেয়ার জ দশ। আমার সিটে সে বসা। আমার সিটটি জানালার পাশে। আমার সিট আমাকে দিতে তার যথেষ্ট কষ্ট হয়েছে, তারপরও যে দিয়েছে। তার মন থেকে সিট ছাড়ার কষ্টঘ্রান আমার নাকে আসতেছে। ভাবলাম কথা বলি তাহলে হয়তো তার মন ভালো হয়ে যেতে পারে। শুরু হলো আমাদের কথা। জানতে পারি সে সুইজারল্যান্ড থাকে। সুইজারল্যান্ড নাম শুনাতে তার প্রতি আমার আগ্রহ বেড়ে গেলো। কারন সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, কানাডা, চীনের প্রতি আমার গোপন আগ্রহ আছে। কাশ্মীরের ঝিলাম নদীর প্রতিও আমার আগ্রহের কমতি নাই। সুইজারল্যান্ড দেশটি কেমন? এক কথায় ড্রিমল্যান্ড! কেন ভাই কেন? এখানে যেমন ধূলিবালি, সেখানে তা নেই, এখানে রাস্তা মানে জ্যাম সেখানে তা নেই, সেখানকার মানুষের দায়িত্বজ্ঞান ভালো, খাবারে ভেজাল নেই। ফ্যামিলিবন্ডেজ কেমন? এটা মনে হয় বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। কারন সুইজারল্যান্ডে এমন
সুহিনি সাবেত্রীর প্রেমিক
সুহিনি সাবেত্রী। ছিপছিপে শরীরে আটসাঁট বাঁধন তার। তার দাঁত যেন সাগরের বালি— চিকচিক করে। শাড়ি তার একমাত্র পোশাক। অবশ্যই রুমের ভেতর সে থ্রি কুয়াটার আর টিশার্ট পরে। সাইকেল তার প্রিয় বাহন। শুধু তার কেন, শান্তিনিকেতনের প্রায় স্টুডেন্টদের প্রিয় বাহন সাইকেল। টাকা হলে স্কুটার কিনবে এমন কথা সে প্রায় বলে বেড়ায়। সুহিনি হাসলে গালে টোল পড়ে। তার চোখে কাজল দেয়া লাগে না, জন্মগতভাবেই তার চোখে কাজল দেয়া। তার মামা তাকে কাজল নামেই ডাকে। সুহিনি যখন সাইকেলে চেপে বসে তখন মাঝেমধ্যে হালকা বাতাসে নাভিমূলের উপর থেকে শাড়ি সরে যায়, আর ঠিক তখন মাই গড টাইপের এক সৌন্দর্য নেমে আসে যেন বহু প্রত্যাশিত কাঞ্চনজংঘা! সুহিনি শান্তিনিকেতনে অনীলদেব শর্মার অধীনে পিএইচডি করছে। বিষয় বাংলা সাহিত্যে গ্রামীন জীবন। বাংলা সাহিত্যে নারীদের অবস্থান নিয়ে সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে
কে হাকিম, কে পুলিশ?
ঘটনা শব্দটি চলমান। মানবজীবনে যা ঘটে তাই ঘটনা। মানুষ হয়ে উঠার পেছনে যা ঘটেছিল তাও ঘটনা। ঘটনা সমাজের প্রাণ, ঘটনা সম্পর্কের প্রাণ। চিন্তাসমষ্টি ঘটনার রক্ত। তাইতো ঘটনা থেকে রটনা, রটনা থেকে ঘটনা। আল্লাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আল্লা, ও আল্লা, তোমার লগে কথা কওন যাইবো?’ আল্লা ক, ‘যাইবো।’ ক্যামনে? কুরান আছে না, কুরানের কথাগুলোই তো আমার কথা। ও আচ্ছা। আচ্ছা আল্লা, কুরান আমগো লাইগ্যা কখন পাঠাইলা? ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতুল কাদরি। ভালো কথা, কদরের রাতে আমরা কুরান পাইছি। কিন্তু এর আগে কুরান কই আছিল? বাল হুয়া কুরআনুম মাজীদ ফি লাউহিম মাহফুজ। ও! কুরান লাউহে মাহফুজে সংগৃহীত ছিল! আচ্ছা আল্লা, কুরান তো দীর্ঘ তেইশ বছরে নাযিল হইলো। কিন্তু তেইশ বছরে কেন্? তুমি তো একদিন কিংবা কয়েকদিনে নাযিল করতে পারতা, তাই না? পারতাম কিন্তু আমি তো বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে
হয় দুধ নয় রক্ত
তিতাস। তিতাস একটি ট্রেনের নাম। তিতাস একটি আনন্দের নামও বটে। তিতাস আছে বলেই অনেক অফিসার বাড়ি থেকে গিয়ে অফিস করতে পারে, ঢাকার মতো ডেড সিটিতে বসবাস করতে হয় না। তবে তিতাস ট্রেনের ভীড় ঢাকার মতোই— পা রাখতে গেলে হিসাব করতে হয়। কারন পা রাখতে গেলে পা হয় আগুনে পড়বে নয় আরেকটা পায়ের উপর পড়বে। আমি সিট পেয়েছি কিন্তু ভীড়ে প্রচন্ড মাতন্ড প্রায়। ভীড় কেটে কোনোক্রমে দরজায় পা রাখলাম। টিকেট কাটতে গেলে কাউন্টারে সিটওয়ালা টিকেট নাই। বললাম ‘দেখেন না পারেন কিনা’। বলল ‘আরেকদিন আইসেন, দেখবো দিতে পারি কিনা’। মনটা বেজার হয়ে গেল। আমার মন বেজার দেখে আল্লা সাথে সাথে ফেরেশতা পাঠায় দিলেন। ফেরেশতা বলল ‘কই যাবেন’। ঢাকা যাবো। দেন টাকা দেন। টাকা দিলাম এবং সিটওয়ালা টিকেট পেলাম। টাকা থাকলেই টিকেট পাওয়া যায় না। চাহিদা ও যোগান
মহিমা চৌধুরী
আয়নাবাজি সিনেমার পর বাদশা ভাই সবচেয়ে জনপ্রিয়। না, বাদশা ভাই কোনো সিনেমার নাম না। বাদশা ভাইয়ের দোকান। ভাসমান দোকান। উদ্যানে তার ভাসমান খাবারের দোকান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থেকে শুরু করে বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সবাই তার খাবারের ভক্ত। সে যখন প্রথম উদ্যানে খাবার চালু করে আমি ছিলাম তার দোকানের প্রথম কাস্টমার। আমি তার খাবার খেয়ে বলেছিলাম আপনি তো একদিন অনেক জনপ্রিয় হয়ে যাবেন, আমার কথা কিন্তু মনে রাখবেন। সে একটি বিনয়ের হাসি দিয়েছিল। আজকেও বাদশা ভাই আর তার বউয়ের আচরনে বিনয় আছে কিন্তু প্রথম কাস্টমার হিসাবে আমার কোনো আলগা সুবিধা নাই। বারোটার মধ্যে তারা উদ্যানে চলে আসে। প্রায় চারটা পর্যন্ত তাদের খাবার চলে। আজকে আসতে একটু লেইট হচ্ছে। একটু বলতে প্রায় দেড় ঘন্টা। সবাই খাবার খেতে আসে কিন্তু খাবার তো আসেনি। অপেক্ষা