ধরুন, আপনাকে আপনার শিক্ষক বকা দিলেন— আই মিন, আপনার সংশোধনের জন্য উচ্চস্বরে কথা বললেন। তখন আপনার মন বিষণ্ন হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু না— এটা আসলে অস্বাভাবিক। শিক্ষক উচ্চস্বরে কথা বলুক, হেসে কথা বলুক, ক্রাইং মোডে কথা বলুক— অর্থাৎ যেভাবেই আপনাকে কিছু বলুক না কেন, সেটা আসলে খুব একটা ম্যাটার করে না। ম্যাটার করে শিক্ষক কী বলছেন। শিক্ষকের কথা শুনে আপনি সংশোধিত হবেন— এটাই একজন যোগ্য শিক্ষকের যোগ্যতম চাওয়া। পথে যেতে যেতে একদিন একজন সাধু টাইপের মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হলো। খুব নির্জন জায়গায়। তিনি অঝোরে কাঁদছেন। আমি বললাম— আমি কি কোনোভাবে আপনাকে কোনো সহযোগিতা করতে পারি? লোকটি চুপ। কোনো কথা বলছেন না। কেবল কাঁদছেন। আমি তার জন্য এক লিটার পানি কিনে নিয়ে আসি—আশেপাশে কোনো দোকান ছিল না। প্রায় এক কিলোমিটার পথ পাড়ি
Author: emranorreja
জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কথোপকথন
— সবচেয়ে গরিব মানুষ কে, বলতে পারো? — সবচেয়ে গরিব তো সে, যার সঙ্গে মানুষ সম্পর্ক করে কোনো এক প্রয়োজনের আশায়। — না, সবচেয়ে গরিব তো সেই মানুষ, যে নিজেই প্রয়োজনকে সামনে রেখে সম্পর্ক নির্মাণ করে। — তাহলে কি কোনো সম্পর্ক আছে, যা প্রয়োজন ছাড়া? — আছে। তবে আগে একটি দৃশ্য কল্পনা করো। ধরো, নদীর ওপারে তোমার মা দাঁড়িয়ে আছেন, আর এপারে তুমি— তোমার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তোমাকে নদী পার হতে হবে। এখন তোমার একটি নৌকা লাগতে পারে, অথবা একটি সেতু। এই যে নৌকা বা সেতু— এগুলো কিন্তু তোমার প্রয়োজন নয়, এগুলো তোমার আয়োজন। তোমার প্রকৃত প্রয়োজন হলো—মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ। যারা আয়োজনকে প্রয়োজন বানায়— যারা অভিনয় করে, মিথ্যা কথা বলে আয়োজনকে প্রয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তারাই ব্যক্তিগত জীবনবোধে সবচেয়ে গরিব। — আর
বাংলাদেশে ফেরার পথে
সাদা গোলাপের ওপর বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা পড়লে মনে হয় পৃথিবী আজ খুব আস্তে কথা বলছে — নিষ্পাপ পাপড়ির গায়ে জল জমে থাকে, মুক্তোর মতো নয়— যেন নীরব প্রার্থনার অশ্রু। সে বৃষ্টি শুধু ফুলকে ভেজায় না, ভিজিয়ে দেয় তাকিয়ে থাকা মনটাকেও— কিছু না–বলা স্মৃতি, কিছু অদৃশ্য ভালোবাসা। কিছু সৌন্দর্য ব্যাখ্যা চায় না, শুধু নীরবে ছুঁয়ে যায়। বাচ্চাটির বয়স ছয় কি সাত হবে। বই পড়ছে। বইটিকেমনে হচ্ছে সাদা গোলাপ এবং বাচ্চাটিকে মনে হচ্ছে সেই সাদা গোলাপের উপর অর্পিত প্রথম বৃষ্টির জল। বোম্বাই এয়ারপোর্টে এমন সুন্দর মনমাতানো দৃশ্য দেখে জার্নির ক্লান্তি যেনো বাগানবাড়িতে বিশ্রাম নিতে গ্যাছে। এয়ারপোর্ট দেখছি আর শক্তিশালী হচ্ছি। সে মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছে। এখনকার সময়ের বাচ্চাদের এতো মনোযোগ দিয়ে বই পড়তে দেখা যায় না— দেখা যায় মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত সারাক্ষণ। বোম্বাই
জলজয়
সখীচার
হলে তুমি সখীচার লালা আমার মরবেই থাকে না তার থাকে না তার উপায় তবে একমুঠোও বাচার নীলাপ্রিয় নীল শাড়ি চোখে উঠে রোদ মনজলে কেপে কেপে উঠে বোদ বোদ আলাবোলা কামবনে ঝড় আসে ঝড় আসে আসে আসে তুফান বড় হওয়া সোনা ফসল— পাকা ধানে মই স্বপ্ন তো ছিলোই স্বপ্ন তো থাকেই মজা করে খাওয়ার কাঁঠালি ধানের খই কামজোয়ার পথ চিনে না— কানার কানা জোয়ারে জোয়ারে ডুবায় ফসল শুনে না মানা কামজ্বর কামজ্বর অতুল সাগর চাবুক মেরে বলি তারে থামো থামো কামডর কামডর কামড় মারে থামানো যায় না— যায় না তারে শুনো ওরে মন আমার ওহে মন মিয়া ধরো তারে আদরে ধরো মায়া দিয়া বান্দো দেহ সোহাগে সোহাগ নিয়া সন্ধি করে সময়ে বসাও সময়বিয়া লাগাও হিয়া তবে হিয়ার সাথে হিয়া
বিপদফুলের কলি
অতিথি পাখি
এইমাত্র দেখা গেলো দূরে আবার চলে গেলো আরও আরও দূরে চোখ থেকে চোখে চোখের সীমানা পেরিয়ে অপেক্ষায় বসে আছি আমি বেকুয়ার বিলে হে অতিথি— ওহে অতিথি পাখি এখানে আছেনি—আছে নাকি কোনো তোমার শামুকমদে পরিযায়ী সাকি? তোমার পাখা মানে না কোনো পাসপোর্ট ভিসা তোমার মন জানে পৃথিবীর পরতে পরতে তুমি পৃথিবীর পরতে পরতে আছে তোমার অধিকার হিস্যা দেশ শব্দটি— এক বাকুয়াস কথা সংবিধান অভিধান— বানোয়াট সুবিধা তোমার কাছে পৃথিবী মানে মুসাফিরঘর সফরে সফরে আওয়াজ করো বর্ডারভাঙার গান করো বর্ডারবাজ মগজের ভেতর হে অতিথি— ওহে অতিথি পাখি আমার সাথে দেখা দিবে নাকি আমিও তোমার মতো মুসাফির উড়ে উড়ে নড়ে চড়ে ভ্রমণ আকি এই পৃথিবী আমার আমি এই পৃথিবীর বর্ডার টডার মিথ্যা ফেলাসি ফেইক শিয়াল ফাকি তোমার পা সত্য গতি চন মন তোমার ঠোঁট জানে প্রয়োজন তোমার ঠোঁটের কথা অনিবার্য হবে এবং অনিবার্য হলো কুয়াশার টেবিলে রোদের আদরে বসি চলো বসি চলো পৃথিবীর বুকে ধান গাছের ফাকে শামুকের সাথে জলের গতরে ভেসে থাকা
আফালের মাছ [১৫]
০১ ধর্মের মর্মকথা যার মনে ধর্মের তর্ককথা তার মুখে আসে না। ০২ যাকে নিয়ে উপহাস করবেন আজ— কাল তার সামনে এমন নতজানু হয়ে দাড়াতে হবে আপনি হাসতে পারবেন না— আপনাকে তখন মনে হবে ডাঙায় ভাসা পাতিহাঁস। ০৩ Mutual respect যেখানে থাকে না সেখানে self respect থাকাটা অনিবার্য— আগুন জ্বালাতে গেলে প্রথমে একটি দিয়াশলাই কাঠিকে জ্বলতে হয়— self respect যখন তার মাত্রা অতিক্রম করে তখন mutual respect আগুন হয়ে জ্বলতে থাকে। ০৪ বিপদের সময় যে আশ্রয় খুজে তার মানসিকতা আশ্রয় নির্ভর হয়ে যায়— বিপদ ফেইস করতে হয় যেমন করে ফেইস করতে হয় আনন্দ— যিনি ফেইস করতে শিখেন তিনিই হয়ে উঠেন আশ্রয়দাতা। ০৫ সুবিধার হাতে অসুবিধা থাপ্পড় খেলে বুঝতে হবে প্রতিশোধ প্রতিহিংসার বাজার গরম। ০৬ ঢেউ আসলে নদী ভাঙে কিন্তু জল পালায় না। ০৭ যতবার আপনি নিজের সুবিধার কথা চিন্তা করে রাজনীতি করবেন ততবারই আপনি
ওথেলো নিয়ে কিছু কথা
“Yet she must die, else she’ll betray more men. Nor scar that whiter skin of hers than snow.” ভালোবাসা যখন সন্দেহে বিষাক্ত হয়— তখন ন্যায়ের ভাষাও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। ওথেলোর এই সংলাপে প্রেম, হিংসা আর আত্মপ্রবঞ্চনার ভয়াবহ সংঘর্ষ সক্রিয়— সে হত্যা করতে যাচ্ছে, তবু সৌন্দর্যে দাগ লাগাতে চায় না— তুষারের চেয়েও শুভ্র সুন্দর ডেসডিমোনার সৌন্দর্যে! শেকসপিয়ার দেখিয়েছেন, সবচেয়ে বড় ক্ষতটি ত্বকে নয়— মানুষের বিবেকেই পড়ে। সন্দেহ যখন জঙ্গল হয়ে ওঠে— তখন প্রশ্ন জাগে—কে ছিল পশু?দেসডিমোনা, নাকি ওথেলো নিজেই? ভুল বোঝাবুঝির জঙ্গলে ওথেলো বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল— আর দেসডিমোনা হারিয়েছিল জীবন। হয়তো পশু কেউ একজন ছিল না— পশু হয়ে উঠেছিল সেই সন্দেহটাই, যা ভালোবাসার পথ ভুলিয়ে দেয়। "Nor scar that” is an example of elliptical structure where the auxiliary verb and subject are omitted. The full form would
শ্রীলঙ্কার সেই পরিবার
দোতলা যে বাড়িতে আছি আমরা তার নাম ডিনো ভিলা। কাকুর একমাত্র ছেলের নাম ডিনো— ডিলঙ্কা ডিনো জায়া। কাকুর একমাত্র ছেলে মহাকালে মিলিয়ে গেছেন— সে সাতার জানতো না— বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যায় একদিন— ঘুরতে গিয়ে শখের আয়োজনে জলে নামে— জল তাকে খেয়ে ফেলে— আর বাড়ি ফিরেনি কাকুর একমাত্র ছেলে। আহা! আহারে! মা'র যে এক পুত যমে বুঝে না!এখনও ছেলের কথা মনে হলে কান্না করেন কাকু আর কাকি— পৃথিবীর সব মায়েদের কান্নার জল একই রকম— পৃথিবীর সব মায়েদের মমতাঘর একই উপাদানে নির্মিত। বিয়ে করার আগেই ছেলেটি মহাকালের সাথে বিয়ের পিড়িতে বসে। একমাত্র কন্যাটিকে সুন্দর সুপুরুষ দেখে বিয়ে দেন— তাদের ঘরে একটি ছেলে আসে। ছেলেটি দেখতে গুনারত্নার মতো হয়নি। গুনারত্মা (Gunarathma / Gunaratma / Gunaratne- কেমন যেনো মেয়ে মেয়ে নাম বলে শুনায়— এটি কাকুর









