এক বছর আগের কথা। আমার চুল তখন বড়— ঝুটি বেঁধে রাখি। ভ্রমণে বের হয়েছি। কোনো এক গ্রাম এলাকায় ভ্রমণ করছি। রিকসাওয়ালা মামা খুবই মজার মানুষ। মামার সব কথা বেশ মজা লাগছিলো। রিকসা থেকে নেমে যাবো এমন সময় হঠাৎ করে তিনি মাটিতে শুয়ে গেলেন এবং আমার পায়ে চুম্বন করতে লাগলেন। আমি না সড়াতে পারছি পা, না সড়াতে পারছি রিকসাওয়ালা মামাকে। মানুষ জমে গ্যাছে। হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন! সে কি কান্না! অবশেষে উনাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে যাই। খাবার খেতে খেতে কাহিনি কী জানতে চাই। — যখন আপনার কাছ থেকে ভাড়া নিতে যামু তখন আমার পীরের চেহারা ভাইসসা উঠছে আপনার মধ্যে। তারপর আমি কি করছি কিচ্ছু কইবাম পারুম না। মামা কইবাম না পারলেও, আমি ঠিকই কইবাম পারছি। পরের দিন সেলুনে গিয়ে সব চুলকে আল্লার রহমতে ইন্নালিল্লাহি
Year: 2026
জঙ্গল বিচ এন্ড সিনিমন আইল্যান্ড
বিড়াল বিষাক্ত কিছু ভক্ষণ করলে সে আলোর দিকে তাকিয়ে থাকে এবং তেলজাতীয় পদার্থ লেহন করতে থাকে। এতে তার বিষক্রিয়া চলে যায়। সাপ যখন গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে, তখন সে চোখে কিছু দেখতে পায় না। এমতাবস্থায় মৌরির পাতার সাথে চোখ ঘষতে থাকে এবং এতে একসময় সেই সাপটি আপন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। তেমনিভাবে চিকিৎসক দেখলেন, 'কোষ্ঠ-কাঠিন্য' হলে পাখি সমুদ্রে চুমুক দিয়ে পানি পান করে। আর আমি দেখেছি। দেখেছি বলতে বিষয়টি গভীরভাবে অবজার্ভ করেছি, আমাদের মোবারক ভাই যখন বোরখাপরিত কোনো মহিলা মানুষ অথবা মেয়ে মানুষ দেখে, সাথে সাথে তার মেজাজ বিষাক্ত হয়ে যায়। মোবারক ভাই তখন বিষমুক্ত হওয়ার জন্যে রুমে গিয়ে গান শুনে অথবা একটা উদার ওপেন প্লেসে চলে যায়। আজকে আমরা যাচ্ছি শ্রীলঙ্কার দারুণ এক ওপেন প্লেসে— প্লেসটি উদারও বটে। গলে ফোর্ট থেকে
গরীব, নিরিখ ও ভাটি ভাষার গল্প
আরবিতে একটি শব্দ আছে غريب (উচ্চারণ: ঘোরীব)। এই ঘোরীব থেকে বাংলা গরীব শব্দের আমদানি। আরবিতে غريب (উচ্চারণ: ঘোরীব) শব্দের বাংলা হলো অদ্ভুত, অস্বাভাবিক, অচেনা যার ইংরেজি হলো “Weird”। কিন্তু বাংলা ভাষায় গরীব শব্দটা অর্থহীন, সহায়সম্পত্তির কমতি বা ঘাটতিকে ইঙ্গিত করে। পুরো বাংলাদেশে একটি কথা প্রায় প্রবাদবাক্যের মতো হয়ে গ্যাছে— "গরীব গজবের সৃষ্টি"— এখন অবশ্যই এই কথার শক্তিগত জায়গা পরিবর্তন হয়েছে। তবে একটি প্রশ্ন কিন্তু থেকে যায়— অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়, নাকি নষ্ট স্বভাবে অভাব আসে? বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল বা ঈসা খাঁর অঞ্চলের মানুষ গরীব শব্দের উচ্চারণ করে গুরিব— হে একটা গুরিব মানু, হের লগে বারাবারি করিছ না। ঈসা খাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের মানুষ ইছাহা বলে— এই অঞ্চলের প্রচুর মানুষের নাম আছে ইছা মিয়া। রাজা না হতে পারলেও রাজার নাম রেখে রাজা রাজা একটা
ভবঘুরে প্রেমিক
ভালো ফসল তুলতে পারেন ঘরে
ধরুন, আপনাকে আপনার শিক্ষক বকা দিলেন— আই মিন, আপনার সংশোধনের জন্য উচ্চস্বরে কথা বললেন। তখন আপনার মন বিষণ্ন হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু না— এটা আসলে অস্বাভাবিক। শিক্ষক উচ্চস্বরে কথা বলুক, হেসে কথা বলুক, ক্রাইং মোডে কথা বলুক— অর্থাৎ যেভাবেই আপনাকে কিছু বলুক না কেন, সেটা আসলে খুব একটা ম্যাটার করে না। ম্যাটার করে শিক্ষক কী বলছেন। শিক্ষকের কথা শুনে আপনি সংশোধিত হবেন— এটাই একজন যোগ্য শিক্ষকের যোগ্যতম চাওয়া। পথে যেতে যেতে একদিন একজন সাধু টাইপের মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হলো। খুব নির্জন জায়গায়। তিনি অঝোরে কাঁদছেন। আমি বললাম— আমি কি কোনোভাবে আপনাকে কোনো সহযোগিতা করতে পারি? লোকটি চুপ। কোনো কথা বলছেন না। কেবল কাঁদছেন। আমি তার জন্য এক লিটার পানি কিনে নিয়ে আসি—আশেপাশে কোনো দোকান ছিল না। প্রায় এক কিলোমিটার পথ পাড়ি
জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কথোপকথন
— সবচেয়ে গরিব মানুষ কে, বলতে পারো? — সবচেয়ে গরিব তো সে, যার সঙ্গে মানুষ সম্পর্ক করে কোনো এক প্রয়োজনের আশায়। — না, সবচেয়ে গরিব তো সেই মানুষ, যে নিজেই প্রয়োজনকে সামনে রেখে সম্পর্ক নির্মাণ করে। — তাহলে কি কোনো সম্পর্ক আছে, যা প্রয়োজন ছাড়া? — আছে। তবে আগে একটি দৃশ্য কল্পনা করো। ধরো, নদীর ওপারে তোমার মা দাঁড়িয়ে আছেন, আর এপারে তুমি— তোমার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তোমাকে নদী পার হতে হবে। এখন তোমার একটি নৌকা লাগতে পারে, অথবা একটি সেতু। এই যে নৌকা বা সেতু— এগুলো কিন্তু তোমার প্রয়োজন নয়, এগুলো তোমার আয়োজন। তোমার প্রকৃত প্রয়োজন হলো—মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ। যারা আয়োজনকে প্রয়োজন বানায়— যারা অভিনয় করে, মিথ্যা কথা বলে আয়োজনকে প্রয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তারাই ব্যক্তিগত জীবনবোধে সবচেয়ে গরিব। — আর
বাংলাদেশে ফেরার পথে
সাদা গোলাপের ওপর বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা পড়লে মনে হয় পৃথিবী আজ খুব আস্তে কথা বলছে — নিষ্পাপ পাপড়ির গায়ে জল জমে থাকে, মুক্তোর মতো নয়— যেন নীরব প্রার্থনার অশ্রু। সে বৃষ্টি শুধু ফুলকে ভেজায় না, ভিজিয়ে দেয় তাকিয়ে থাকা মনটাকেও— কিছু না–বলা স্মৃতি, কিছু অদৃশ্য ভালোবাসা। কিছু সৌন্দর্য ব্যাখ্যা চায় না, শুধু নীরবে ছুঁয়ে যায়। বাচ্চাটির বয়স ছয় কি সাত হবে। বই পড়ছে। বইটিকেমনে হচ্ছে সাদা গোলাপ এবং বাচ্চাটিকে মনে হচ্ছে সেই সাদা গোলাপের উপর অর্পিত প্রথম বৃষ্টির জল। বোম্বাই এয়ারপোর্টে এমন সুন্দর মনমাতানো দৃশ্য দেখে জার্নির ক্লান্তি যেনো বাগানবাড়িতে বিশ্রাম নিতে গ্যাছে। এয়ারপোর্ট দেখছি আর শক্তিশালী হচ্ছি। সে মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছে। এখনকার সময়ের বাচ্চাদের এতো মনোযোগ দিয়ে বই পড়তে দেখা যায় না— দেখা যায় মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত সারাক্ষণ। বোম্বাই
জলজয়
সখীচার
হলে তুমি সখীচার লালা আমার মরবেই থাকে না তার থাকে না তার উপায় তবে একমুঠোও বাচার নীলাপ্রিয় নীল শাড়ি চোখে উঠে রোদ মনজলে কেপে কেপে উঠে বোদ বোদ আলাবোলা কামবনে ঝড় আসে ঝড় আসে আসে আসে তুফান বড় হওয়া সোনা ফসল— পাকা ধানে মই স্বপ্ন তো ছিলোই স্বপ্ন তো থাকেই মজা করে খাওয়ার কাঁঠালি ধানের খই কামজোয়ার পথ চিনে না— কানার কানা জোয়ারে জোয়ারে ডুবায় ফসল শুনে না মানা কামজ্বর কামজ্বর অতুল সাগর চাবুক মেরে বলি তারে থামো থামো কামডর কামডর কামড় মারে থামানো যায় না— যায় না তারে শুনো ওরে মন আমার ওহে মন মিয়া ধরো তারে আদরে ধরো মায়া দিয়া বান্দো দেহ সোহাগে সোহাগ নিয়া সন্ধি করে সময়ে বসাও সময়বিয়া লাগাও হিয়া তবে হিয়ার সাথে হিয়া









