You are here

জাম্পিং পয়েন্ট গলে ফোর্ট।

সাগর তীরে বসা এক কন্যা। তখন রাত। তার চুল হেলে আছে পীঠের দেয়াল বেয়ে। তার মুখে হাসি। তার শরীরে বয়ে যাচ্ছে আনন্দের ঢেউ। তার বসা যেনো বসা নয় নৃত্যরত মিষ্টি সাপের ফনাফুল। চোখ সরতে চায় না। রাত গভীর হয়। পৃথিবীর শব্দশিবিরে ভাটা নামে— মনের শব্দ একটু একটু করে কথা বলতে শুরু করে। তার মনের শব্দ আমার কানে আসে না— আমার মনের শব্দ তার কানে যাচ্ছে কিনা জানি না—অজানা এক নির্জনতায় আমার ভেতর দিয়ে তাকে আবিষ্কার করার অভিপ্রায় হাজার বছরের চেষ্টার একটি উপায় মাত্র— উপায়ে পাত্তা না দিয়ে উপলক্ষের দিকে যাত্রা করি— আমার যাত্রার উপলক্ষ কাউকে না জানিয়ে তাকে জেনে নেয়া— আমার সফরের লক্ষ্য কাউকে জেনে তার মধ্যে দিয়ে নিজেকে জেনে নেয়ার মতো কোনো এক আলোকিত ভোর।

রাত বাড়ছে। পুরাতন এই রাত। এই ফুলকন্যার সুঘ্রাণ বেড়েই চলছে। রাত বাড়ছে মানে পুরাতন দিনের দিকে তার যাত্রা। এই ফুলকন্যার সৌন্দর্য সুঘ্রাণ বাড়ছে— তবে তার যাত্রা কোন বলয়ের দিকে তা বলতে পারি না।

ভারত মহাসাগরে এখন দারুণ জোছনা। জোছনার সাথে এই ফুলকন্যার ❀ অমিলের চেয়ে মিল বেশি। মিল অমিলের হিসাব কষে মাস্টার মশাই হওয়ার সুযোগ নেই এখন আমার মনের হাতে— পাগল মন, মন রে মন কেনো এতো কথা বলে!?

রাত বাড়ছে। সাগরের ঢেউও বাড়ছে। আমার ভেতরের ঢেউও বেড়ে চলছে। এতো এতো বাড়তি মাঝে তার আর আমার যোগাযোগের এতো ঘাটতি কেনো?

ফুলকন্যার নাম জানি না— তবে সুইটি, বিউটি, জান্নাত—এমন কিছু হবে না— তার শরীরের হালকা পোশাক, হালকা চামড়া আর শরীরের কালার বলে দিচ্ছে এই ফুলকন্যার দেশ সুইজারল্যান্ড অথবা সুইডেন হবে।

আমি বসা উত্তর দিকে— সে বসা দক্ষিণ দিকে— আমরা দুজনেই বসে আছি গলে ফোর্টের জাম্পিং পয়েন্টে।

এই জায়গার নাম জাম্পিং পয়েন্ট হলো কেনো?

কিছু ক্রেজি লোক এখান থেকে জাম্প দিয়ে সরাসরি সাগরে পড়ে— বিনিময়ে তারা পায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ ডলার— এই জায়গাটি গলে ফোর্টের সবচেয়ে উচু জায়গার একটি— এখান থেকে সাগরের জলদেশের দূরত্ব প্রায় আশি থেকে নব্বই ফুট হবে। যেখান থেকে লাফ দিয়ে তারা সাগরে পরে সেখানেই শক্ত পাথর দেখা যায়— ভয় নেই তাদের— জলের উপরিভাগ থেকে পাথরের দূরত্ব তিন ফুটের বেশি হবে না। চর্চায় মানুষ কি না পারে!

একা বসে থাকা কোনো সুন্দরী মেয়ের সাথে কথা বলার চর্চা আমার এই জীবনে নেই— তবে সে বসে আছে— তবে আমিও বসে আছি— সাগরের নীল ঢেউ আর রাতের নরম বাতাসের মাঝে। বসে আছে নীরবে এই ফুলকন্যা— তার চুল পীঠ ছুঁয়ে নামছে উঠছে ঘুরছে ধীর ছন্দে, যেনো জোয়ারের মৃদু ঢেউ। তার মুখে একরকম হাসি—অকারণ, অথচ অর্থপূর্ণ।

সে বসে আছে, কিন্তু সে বসা নয়—তার অস্তিত্ব যেনো কোনো এক রূপকথার ছন্দ। রাত গভীর হতে থাকে, পৃথিবীর সব শব্দ ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসে। আর তখন, নির্জনতায় তার মনের শব্দ কথা বলতে শুরু করে।

আমি শুনতে পাই না, তবু ভাবি—তার মনের শব্দ কি বাতাসের কান পেরিয়ে আমার কাছে আসে? কিংবা আমার মনের শব্দ কি পৌঁছায় তার নীরবতায়? জানি না। শুধু জানি, এই মুহূর্তটা হাজার বছরের পুরনো কোনো খোঁজের এক অনিবার্য অধ্যায়।

Leave a Reply

Top