সাগর তীরে বসা এক কন্যা। তখন রাত। তার চুল হেলে আছে পীঠের দেয়াল বেয়ে। তার মুখে হাসি। তার শরীরে বয়ে যাচ্ছে আনন্দের ঢেউ। তার বসা যেনো বসা নয় নৃত্যরত মিষ্টি সাপের ফনাফুল। চোখ সরতে চায় না। রাত গভীর হয়। পৃথিবীর শব্দশিবিরে ভাটা নামে— মনের শব্দ একটু একটু করে কথা বলতে শুরু করে। তার মনের শব্দ আমার কানে আসে না— আমার মনের শব্দ তার কানে যাচ্ছে কিনা জানি না—অজানা এক নির্জনতায় আমার ভেতর দিয়ে তাকে আবিষ্কার করার অভিপ্রায় হাজার বছরের চেষ্টার একটি উপায় মাত্র— উপায়ে পাত্তা না দিয়ে উপলক্ষের দিকে যাত্রা করি— আমার যাত্রার উপলক্ষ কাউকে না জানিয়ে তাকে জেনে নেয়া— আমার সফরের লক্ষ্য কাউকে জেনে তার মধ্যে দিয়ে নিজেকে জেনে নেয়ার মতো কোনো এক আলোকিত ভোর। রাত বাড়ছে। পুরাতন এই রাত।
Year: 2025
বাংলার নদীর পথে পথে…
জলের আরেক নাম জীবন আমরা সবাই জানি কিন্তু জীবনকে কেমন করে ব্যবহার করতে হবে তা নিয়ে আমাদের গবেষণা নাই। জল খাবারের একটি বিশাল উৎস— এই নিয়ে সুন্দর গবেষণা হতে পারতো— গবেষণা হলে নদীকে কেন্দ্র করে দারুণ অর্থনৈতিক এলাকা গড়ে উঠতো বাংলার— গবেষণা হয়নি বিধায় নদীর উপযোগিতা আমাদের কাছে পরিষ্কার না— নদী কেবল মাছের উৎস এমন না— নদী ফসলেরও যোগ্য জায়গা যা নদীর পাড়ের মানুষ জানে না— আমাদের জাহাজ নদীর দুপারের মাঝ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে আপন গতিতে— আমাদের জাহাজ শীতলক্ষ্যার চিকন শরীর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে— এগিয়ে যাচ্ছে মেঘনা নদীর দিকে— দুপাশে উঁচু উঁচু দালান মিলফ্যাক্টরি— ঢাকার শীতলক্ষ্যার দুপাশ মানে আলোর ঝলকানিতে মুখরিত। রাতের এখন শিশুকাল— একটু আগে এশার নামাযের আযান কানে আসে দূর মসজিদ থেকে— মুয়াজ্জিন বলতেছেন কল্যানের পথে আসো— حي على
চোখের রোদ।।
ভুলে যাওয়া পাখি আলো ঝিকিমিকি সন্ধ্যা রাতের কথা মনে পড়ে কী একা তারে বসে হাওয়া খেতে খেতে কার কথা ভাবো অতীতে অতীতে যাকে তুমি চাও নাপেয়ে পেয়ে যাও জোছনার মতো জল আলোতে আলোতে মনের গহীনে আরও গোপনে প্রকাশ হলে ভালো চলিতে চলিতে অচেনা অজগর বোধ চোখের পেছনে রোদ ফিরিতে ফিরিতে ক্লিয়ার হলে ভালো যতসব কর্ম মান অভিমান বর্ম বলিতে বলিতে
কাচুলি সন্ধ্যা
কাচুলি সন্ধ্যা উদাম করো উদার অন্ধকারে সুরকি মানুষ তোমার জলে বাতাস নড়েচড়ে হাওয়া ওগো হাওয়া ওগো আঘাত কেন করো ঘুমপাড়ানির প্রজা সকল কুয়াশা গল্প ধরো ভূত নামবে জ্বিন নামবে নামবে রাতের ফুল সাগর কোমড় খুজতে খুজতে পেছনে যাচ্ছে কূল কূল নাই কিনার নাই— সর্বনাশা ডাক লোভের নিচে লোভ লাগালো অলস দুপুর কাক ধানের বীজ গানের বীজ কোথায় যেনো যাচ্ছে নূপুরপরা সন্ধ্যাতারা ☆ হাওয়ায় আলো মাখছে অমলধবল শাড়ির ভাজ অতীত গিলে খাচ্ছে এক মাঘে চেতনাশীত দারুণ অরুণ নাচছে ম্যাসাকারে আষাঢ়গীত রক্তবীজে বাজছে একলা পাখি একলা আকাশ একা নীড়ে ফিরছে
আমি তোমার ঘুড়ি
এইখানে বসে চোখের ভেতরে নদীর মতো মাঝি একে এইখানে বসে ঢাকা শহরের সমগ্র আলো মেখে নীরব হয়ে যাই চলো চোখের সাগরে একটা ছোট্ট কোলাহলও থাকবে না মানুষের বানানো মাংসের দুনিয়া মাংসের বানানো রাজনীতির খায় খায় স্বভাব অন্ধকারে যেমন আলোর অভাব আলোতে যেমন আলোচনার লবনাক্ত হাবভাব সবকিছু ছেড়ে সবকিছু রেখে সবার একজন হয়ে একজনের সবার হয়ে চলো পালাই— আরও আরও লোকালয়ের ভেতর চলো পালাই— আরও আরও কোলাহলের উপর অনেক শব্দের ভেতর তুমি ঘুড়ি তোমার ঘুড়ির পাখায় উড়ি— এই আমি উড়ি এখন উড়ি তখন উড়েছি উড়তে থাকবো আরও আরও বহুবার যতবার আকাঙ্ক্ষা জন্মাবে তোমার ততবার তুমি আমার কেবলই আমার
কৈবর্ত বিদ্রোহ অথচ গাবর
বেরজাল। এই জালকে আমরা বেরজাল বলি। বেরজাল হলো এক ধরনের বড় জাল, সাধারণত নদী, খাল, বিল বা পুকুরে টেনে টেনে মাছ ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়। বেরটানা মানে হলো অনেক মানুষ মিলে বড় জাল ফেলে ধীরে ধীরে টেনে এনে মাছ ধরা। বের মানে আটকানো— সবদিক থেকে কোনোকিছুকে আটকিয়ে ফেলাকে বের বলে— সহজে বললে, বন্দী করে ফেলা। বেরজাল মানে মাছকে বন্দী করে ফেলার জন্যে জলে যে জাল ফেলা হয় তাই বেরজাল। ছোটোকালে দেখতাম খুব সকালে এবং সন্ধ্যায় বেরজাল দিয়ে পানসে নদী থেকে মাছ ধরছে জেলে। যারা মাছ ধরে তাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের মানুষ গাবর বলে। গাবরের বহুবচন গাবরা বা গাবরারা। গাবর শব্দটা এসেছে ধীবর থেকে। ধীবর শব্দটা এসেছে সংস্কৃত धीवर থেকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে গাবর শব্দটা অপরিচ্ছন্ন মানুষকে বুঝাতেও ব্যবহার হয়ে থাকে। হে একটা গাবর—
বদনামের আচার।।
বদনামের আচার যদি না পায় মানুষ কথার খাবার জমে না আড্ডায় বাতাসে উড়ে না যাত্রাপালার আনন্দ ফানুস এই নদী সাগরে যাবে মিষ্টি হবে তার জল এই সাগর নদীকে খাবে নোনতা হবে তার ফল গাছের কোনো ঘর নেই জলের আছে চর কথাতে আপন তুমি কথাতেই পর কাকে মানুষ করছে আপন কাকে মানুষ বলছে অপর পাতাতে পাখির সংসার পাতাতে হচ্ছে জমি আশ্চর্য উর্বর একই সূর্য তোমার আমার মানুষ মায়ের সন্তান এই সমাজই বানাচ্ছে প্রিয় সাধু ভন্ড মাস্তান ফুল থেকে ফলকে আলাদা করো যদি প্রকাশ পাবে কেবলই তোমার কথার বাহাদুরি বাহাদুরি রুচির শত্রু সাদা মোড়কে ত্রাস বদনামের কপাল খেয়ে বাশি হচ্ছে বাশ সময়ের স্রোত হয়ে রেজা চলে বয়ে সুরের সাথে ঘরসংসার অসুর যায় ক্ষয়ে
রাধিকা নদীর পাড়ে।
রাধা— রাধাগো আমার রাধাস্নাত শ্রাবণ মাসের বুক ভাসালে তুমি রাত গেলো— ভোর এলো— এলো ভোরের বাহার ভোরশাড়ির ভাজ ভাঙলে না— সকাল হলো তোমার রাধাস্নাত রাত শেষে ভোরের আলো চোখে ঘাসফুলের মতো প্রিয়া প্রিয়া আমার ভালো— নন্দ চন্দ মুখে আলো নাচে আকাশ মেঘে ☁— নদীর জলে ঢেউ তোমার মতো আমার ক্ষত দেখেনি আর কেউ চুলউড়ানো বাতাস আমি— তোমার ঠোঁটের ফুল ভাসতে ভাসতে রাধাকিস্তি চিনছে রেজাকুল অচেনার ঘরে দেখো প্রিয়— চেনা চোরের বাড়ি সংসারের উঠোনহাটে বাড়ছে পুলিশ ফাড়ি লোহা নহে কাস্তে নহে সাগর হয়ে এসো তোমার জন্যে আমার হৃদয়— জলপালঙ্কে বসো
ভুলের জঠরে: অস্তিত্ব, বিস্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের অনির্বচনীয়তা” — এমরানুর রেজা
ভুলের জঠরে বায়তুল্লাহ্ কাদেরী বলিঘোড়া খুব কাছে এসে হ্রেষা ডাকে: উঠুন, সম্ভ্রান্ত। উঠুন এ পৃষ্ঠদেশে। ভাবলাম, এই আরোহণ যদি হয় নদী-মদিরার দেশে আর না ফেরার ? যদি হয় ভুলে-যাওয়া ঋণের চারণভূমি তাহলে কি ঘোড়া স্থির হবে ঘূর্ণন রেখায় ? আবহমানের কোল ঘেঁষে আমিও দাঁড়াই ছিলাম, রয়েছি, রবো- এইভাবে মর্ত্যময় একজন ভাবে, অন্যজন খুব ভোরবেলা অপরজনের কাছে এসে বলে পৃথিবীতে যে লোকের জন্য দম বন্ধ হতে যাচ্ছিল রুহের ফেরেশতার তারও প্রশ্ন ছিল: ছিলাম, রয়েছি, রবো- এসবের মানে কি বলুন? জনাব, জবাব দিয়েই তবে নিয়ে নিন আমার রুহের তোহফা। ফেরেশতাটি থ' মেরে তাজ্জব! বলে কি এ গোয়ালার পুত ! ঝিয়ের পেটেই কি না মায়ের জন্ম! তাহলে ঝিটা কার? কোথায় সে ছিল, রয়েছে কোথায়, কিংবা রবে কোন ভুলের জঠরে ? কবিতাটি এক অস্তিত্ববাদী ভ্রমণ। বলিঘোড়া এখানে নিয়তির রূপক, যেটি মানুষকে টেনে নেয় অজানা গন্তব্যে। “ছিলাম, রয়েছি, রবো”—এই পুনরাবৃত্তি প্রশ্ন তোলে
আফালের মাছ [১৪]
০১ হাল কেটে যারা প্রেম আনলেন তারাই হয়ে উঠলেন কুমির🐊 ০২ ডাকাত তাড়ানোর পর আপনি যখন ডাকাত হয়ে উঠেন তখন কিন্তু আমরা বলতে বাধ্য— ডাকাতই ভালো ছিলো! মানুষ মাস্টারি পছন্দ করে না— মানুষ যাকে মাস্টার মানে তাকে মাস্টারি করা লাগে না। যোগ্যতার একটা নিজস্ব ক্ষমতা আছে— ক্ষমতার নিজস্ব যোগ্যতা নাই: আজ আছে কাল নাই! ০৩ বাঙালি মেয়েরা অলঙ্কার পছন্দ করে— তবে সারাদিন অলঙ্কার পরে বসে থাকে না— বয়ফ্রেন্ড, বাঙালি মেয়েদের কাছে অলঙ্কারের মতো— বিশেষ কারন ছাড়া মেয়েরা বয়ফ্রেন্ডকে পাবলিকলি ওপেন করে না। ০৪ যে যাকে যত ভালোবাসে সে তাকে তত সুন্দর দেখে— আমার কাছে কথাডা সত্য নয়— সুন্দর ইজ অলয়েজ সুন্দর— চান্দের জোছনাকে আপনি ভালো না বাসলেও জোছনার কোনো যায় আসে না—তবে খাবার হিসাবে কাডল পাতা ছাগল পছন্দ করে, মানুষ করে না—রুচির জায়গা আলাদা— আলাদা রুচি আলাদা









